আচরণগত সমস্যা, ঘরোয়া টিপস্‌, জীবনযাত্রা, ফিটনেস, মানসিক স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্য সমস্যা

স্লিপ অ্যাপনিয়া ও কিছু ভ্রান্ত ধারণা !

স্লিপ অ্যাপনিয়া মানে কি শুধুই নাক ডাকা? অনেকেই নাক ডাকা বা ঘুম না হওয়াকে স্লিপ অ্যাপনিয়া মনে করে থাকেন। কিন্তু, এটি আসলে একটি রোগ। এই রোগের বহুবিধ লক্ষণ দেখা দিতে পারে। চলুন, এই রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানি ও ভুল ধারণা দূর করি।

নাক ডাকা স্লিপ অ্যাপনিয়া নয়; তবে এটি এই রোগের কারণ বা লক্ষণ হতে পারে। এই রোগ হলে একজন ব্যক্তির রাতে ঘুমের মধ্যে প্রায় ৪০০ বার শ্বাস বন্ধ হবে। প্রতিবার শ্বাস বন্ধ হলে ১০-৩০ সেকেন্ড স্থায়ী হবে। ঠিকমত ঘুম না হওয়ার কারণে আপনি সারা দিন দুর্বল বোধ করতে পারেন।

অনেকে ভেবে থাকেন, এটি খুবই সাধারণ সমস্যা; মোটেই তা নয়। ঘুমে সমস্যা হওয়ার কারণে আপনার কাজে ব্যাঘাত ঘটতে পারে, সড়ক দুর্ঘটনা হতে পারে, এমনকি হার্ট অ্যাটাক অথবা স্ট্রোক হতে পারে।

সাধারণত নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে স্লিপ অ্যাপনিয়া হয়ে থাকে। এই রোগটি নিশ্বাস বন্ধ হওয়ার কারণ নয়। কোন কারণে জিহ্বা, টনসিল অথবা অন্য কোন টিস্যু শ্বাসনালীর পথ বন্ধ করে ফেললে এই রোগ দেখা দিতে পারে।

অনেকে মনে করেন, শুধুমাত্র বয়স্ক ব্যক্তিই এর শিকার হয়ে থাকেন। সাধারণত ৪০ বছরের উর্ধে বয়স এমন ব্যক্তিদের স্লিপ অ্যাপনিয়া হতে বেশি দেখা দেয়। কিন্তু কম বয়সীরাও স্লিপ অ্যাপনিয়ার ঝুঁকির বাইরে নয়।

মদ্যপান বা ঘুমের ঔষধ গ্রহণ করলে উপকার পাওয়া যাবে। মদ্যপান করলে বা ঘুমের ঔষধ ব্যবহার করলে ঘুম ঘুম ভাব আসবে। এগুলো ভুল ধারণা! স্লিপ অ্যাপনিয়ার ক্ষেত্রে এগুলো খুব-ই ক্ষতিকর।

অনেকে মনে করেন, বাচ্চাদের স্লিপ অ্যাপনিয়া হয় না। আসলে বাচ্চাদের এই রোগ হওয়ার সংখ্যা অনেক বেশি।

চিত হয়ে ঘুমানোর পরিবর্তে কাত হয়ে ঘুমালে বেশি উপকার পাবেন। চিত হয়ে ঘুমালে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে জিহ্বা বা অন্যান্য টিস্যু শ্বাসনালী বন্ধ করে দিতে পারে।

এই রোগের বিভিন্ন চিকিৎসা (যেমনঃ মাউথ পিস) রয়েছে। তবে কোনটি কাজে না দিলে সার্জারি করতে হতে পারে। তবে অবশ্যই যেকোনো সমস্যার জন্য চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে নিন।

Comments

comments

পূর্ববর্তী পোস্ট পরবর্তী পোস্ট

আপনি হয়ত এগুলো পছন্দ করতে পারেন