জীবনযাত্রা, বয়স্কদের স্বাস্থ্য, সামাজিক সচেতনতা

স্ট্রোক ও তার পরবর্তীতে করণীয়

স্ট্রোক বলতে বোঝায় কোন কারনে মস্তিস্কের নিজস্ব রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হওয়ার ফলে স্মায়ুকোষ নষ্ট হয়ে যাওয়াকে। স্ট্রোককে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় সেরিব্রোল ভাসকুলার এ্যাকসিডেন্ট বলা হয়। যা বাংলা করলে দাড়ায়, মস্তিস্কের রক্তনালীর দূর্ঘটনা। আমাদের মস্তিস্কের বিভিন্ন জায়গা আমাদের শরীরের বিভিন্ন কাজের জন্য নির্দিষ্ট থাকে। স্ট্রোকের ভয়াবহতা নির্ভর করে মস্তিস্কের কোথায়, কতটুকু আক্রান্ত্ হয়েছে তার উপর।

সাধারনত দুটি কারনে স্ট্রোক হয়ে থাকে:-

১. মস্তিস্কের রক্তনালীতে কোন কিছু জমাট বাধলে । যার ফলে রক্তের নালীকা বন্ধ হয়ে যায় এবং মস্তিস্কের আক্রান্ত্ অংশের স্মায়ুকোষগুলো অক্সিজেনের অভাবে মারা যায়।

২. মস্তিস্কে রক্তক্ষরন ঘটলে: উচ্চ রক্তচাপ এই স্ট্রোকের অন্যতম কারন যেখানে ছোট ছোট রক্তনালীকা ছিড়ে রক্তক্ষরন হয়, ফলে মস্তিস্কের মধ্যে চাপ বেড়ে যায় এবং অক্সিজেনের অভাবে মস্তিস্কের স্মায়ুকোষগুলো মারা যায়।

স্ট্রোকের প্রাথমিক টি উপসর্গ দেখা যায়:-

১. হঠাৎ অতিরিক্ত মাথা ব্যথা।

২. হঠাৎ মুখ, হাত ও পা অবশ হয়ে যাওয়া (সাধারণত শরীরের যে কোন এক পাশ)। অনেক সময় মুখের মাংস পেশি অবশ হয়ে যায়, ফলে লালা ঝড়তে থাকে।

৩. হঠাৎ কথা বলতে এবং বুঝতে সমস্যা হওয়া।

৪. হঠাৎ এক চোখে অথবা দুই চোখে দেখতে সমস্যা হওয়া।

৫. হঠাৎ ব্যালেন্স বা সোজা হয়ে বসা ও দাড়াতে সমস্যা হওয়া, মাথা ঘুরানো এবং হাটতে সমস্যা হওয়া।

 

বয়স সাধারণত ৫০ এর উপরে হলে, বংশে স্ট্রোক রোগী থাকলে, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে, উচ্চ কোলস্টেরল লেভেল থাকলে, ধূমপায়ী হলে, ডায়াবেটিস থাকলে, ইতিপূর্বে একবার স্ট্রোক করলে, অ্যালকোহলিক হলে, রক্তের নালীকাতে কোন সমস্যা থাকলে।

 

 

স্ট্রোক পরবর্তী সমস্যা:

শরীরের এক পাশ অথবা অনেক সময় দুই পাশ অবশ হয়ে যায় । মাংসপেশীর টান প্রাথমিক পর্যায়ে কমে যায় এবং পরে আস্তে আস্তে টান বাড়তে থাকে।  হাত ও পায়ে ব্যথা থাকতে পারে । হাত ও পায়ের নড়াচড়া সম্পূর্ন অথবা আংশিকভাবে কমে যেতে পারে । মাংসপেশী শুকিয়ে অথবা শক্ত হয়ে যেতে পারে। হাটাচলা, উঠাবসা, বিছানায় নড়াচড়া ইত্যাদি কমে যেতে পারে । নড়াচড়া কমে যায় যার ফলে চাপজনিত ঘা দেখা দিতে পারে । শোল্ডার বা ঘাড়ের জয়েন্ট সরে যেতে পারে ইত্যাদি।

 

স্ট্রোকের পরবর্তী ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা:

একজন ফিজিওথেরাপিষ্ট রোগীর রোগ বর্ণনা, ফিজিক্যাল টেষ্ট, ফিজিওথেরাপিউটিক স্পেশাল টেষ্ট, বিভিন্ন রেডিওলজিক্যাল টেষ্ট এবং প্যাথলজিক্যাল টেষ্ট এর মাধ্যমে কি ধরনের স্ট্রোক হয়েছে এবং শারিরীক সমস্যা সূমহ নির্ণয় করে থাকেন। অত:পর রোগীর সমস্যানুযায়ী চিকিৎসার পরিকল্পনা বা ট্রিটমেন্ট প্লান করেন এবং সেই প্লান অনুযায়ী নিন্মোক্ত পদ্ধতিতে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকেন।

 

স্ট্রোকের প্রাথমিক অবস্থায় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা :

* শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করণ

* সঠিক পজিশনিং

* মাংস পেশীর স্বাভাবিক দৈর্ঘ্য বজায় রাখা

স্ট্রোকের সপ্তাহ পর ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা:

– মাংস পেশীর স্বাভাবিক টান ফিরিয়ে আনা

– শরীরের স্বাভাবিক অ্যালাইনমেন্ট ফিরিয়ে আনা

– শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টের স্বাভাবিক নাড়ানোর বা মুভমেন্ট ফিরিয়ে আনা

– ব্যালেন্স ও কো-অরডিনেশন উন্নত করা

– স্বাভাবিক হাঁটার  সক্ষমতা  ফিরিয়ে আনা

– রোগীর কর্মক্ষমতা  বাড়ানো

– রোগীর মানষিক অবস্থা উন্নত করা

– রোগীকে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে যেতে সাহায্য করা

 

রোগীর শারিরীক সমস্যা দুর করে কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার ভূমিকা অপরিসীম। তবে ফিজিওথেরাপি’র নামে শুধূমাত্র মেশিন যেমন: হিট, ভাইব্রেশন, ইলেকট্রিক্যাল ষ্টিমুলেশন ইত্যাদি ব্যবহার করে যে অপচিকিৎসা দেয়া হয় তা থেকে বেঁচে থাকাই ভালো। সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিন, সুস্থ থাকুন।

 

 

 

Comments

comments

Previous Post Next Post

You Might Also Like

Comments are closed.