শিশুর দুধ দাঁত; আরো যত্নশীল হোন
দাঁত, নবজাতক এবং শিশুর যত্ন

শিশুর দুধ দাঁত; আরো যত্নশীল হোন

“শিশুর দুধ দাঁত তো একসময় পড়েই যাবে, এর আবার অতো যত্নের কী প্রয়োজন?”- আমাদের দেশের অনেক বাবা-মায়েরই শিশুর অস্থায়ী বা দুধ দাঁত সম্পর্কে এমন মনোভাব রয়েছে। কিন্তু জানেন কি, দাঁতের নিয়মিত সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে অস্থায়ী দাঁত তো বটেই, এমনকি স্থায়ী দাঁতেরও অনেক সমস্যা এড়ানো সম্ভব?

সাধারণত প্রতিটি অস্থায়ী দাঁত একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত মুখের ভেতর অবস্থান করে, এরপর সেটি পড়ে গেলে ঐ স্থানে নতুন স্থায়ী দাঁত আসে। অস্থায়ী দাঁত থাকার সময়টুকুতে একে অবহেলা না করে এর নিয়মিত যত্ন নেওয়া উচিত। অন্যথায় শিশু দাঁতের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। অসময়ে দাঁত পড়ে গেলে শিশুর বিভিন্ন সমস্যাও হতে পারে।

অসময়ে দুধ দাঁত পড়ে গেলে যে সমস্যা হতে পারে

  • দুধ দাঁত নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পড়ে গেলে আশপাশের দাঁতগুলো সেই ফাঁকা স্থানটির দিকে হেলে পড়ার প্রবণতা থাকে। যার কারণে পরবর্তীতে সেখানকার স্থায়ী দাঁতটি আকাবাঁকা অবস্থানে উঠতে পারে।
  • চোয়ালের স্বাভাবিক আকৃতি নষ্ট হতে পারে।
  • শিশু সব খাবার ভালভাবে চিবিয়ে খেতে পারে না, ফলে হজমে সমস্যা এবং পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে।
  • দাঁতের সঠিক যত্নের অভাবে দাঁতে গর্তসহ ছোটবড় বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। এর ফলস্বরূপ শিশুর দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। যেমন- দাঁতে ব্যথার কারণে স্কুলে অনুপস্থিত থাকা, রাতে ঘুম না হওয়া।
  • শিশুর সঠিক উচ্চারণ শেখা ব্যাহত হতে পারে।
  • দাঁতে সমস্যা এবং এর কারণে অকালে দাঁত হারানোর ফলে শিশু মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত বোধ করতে পারে।

 

শিশুর অস্থায়ী দাঁতের যত্নে করণীয়

  • যত্ন শুরু করতে হবে মুখে দাঁত আসার আগে থেকেই। প্রতিবার খাওয়ার পর পরিষ্কার নরম কাপড় পানিতে ভিজিয়ে, আঙ্গুলে জড়িয়ে, তা দিয়ে শিশুর জিহ্বা ও মাড়ি মুছে পরিষ্কার করতে হবে।
  • শিশুর মুখে সব ক’টি দুধ দাঁত উঠে গেলে তাকে নিজে নিজে ব্রাশ করতে শেখান। বাবা-মা দাঁত ব্রাশ করার সময়ে শিশুকে সঙ্গে নিয়ে ব্রাশ করুন, যাতে আপনাকে দেখে শিশু শিখতে পারে।
  • ৬ বছরের কমবয়সী শিশুদের জন্যে বড়দের টুথপেস্ট নয়। তাদেরকে শিশুদের জন্যে বিশেষভাবে তৈরি টুথপেস্ট ব্যবহার করতে দিন।
  • ফাস্ট ফুড, চকলেট, ক্যান্ডি, কেইক, চিপস, বিসকিট – এ জাতীয় মিষ্টি, আঠালো জাতীয় খাবার শিশুকে সীমিত পরিমাণে খেতে দিন। খাওয়ার পরপরই যেন সে দাঁত ব্রাশ করে ফেলে বা অন্তত মুখ কুলকুচি করে ধুয়ে নেয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।
  • শিশু প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণ হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে সজাগ থাকুন।
  • শিশুর মনে ডেন্টিস্ট ও ডেন্টাল চেম্বার সম্পর্কে ভীতিকর ধারণা না দিয়ে বরং ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলুন। ৬ মাস অন্তর একজন ডেন্টিস্টের কাছে তার মুখ ও দাঁতের চেক-আপ করান। কোনো সমস্যা ধরা পড়লে অবহেলা না করে দ্রুত তার চিকিৎসা করান।

 

শিশুর স্থায়ী দাঁতের সুস্থতা ও সৌন্দর্যের একটা বড় অংশ নির্ভর করে রোগমুক্ত, সুবিন্যস্ত দুই পাটি দুধ দাঁতের ওপর। তাই আসুন, আমরা প্রত্যেকে শিশুর অস্থায়ী দাঁতের প্রতি যত্নবান হই। উপহার দিই তাদেরকে নির্বিঘ্ন হাসিমাখা ভবিষ্যত।

Comments

comments

Previous Post Next Post

You Might Also Like

Comments are closed.