ঘরোয়া টিপস্‌, জীবনযাত্রা, সম্পর্ক

শাশুড়ি ও বৌমা ; কেমন হবে সম্পর্ক?

শাশুড়ি ও বৌমা কি শুধুই একটি সম্পর্ক? “ছেলের বউ” বা “স্বামীর মা” পরিচয়ের বাইরেও দুইটি প্রজন্ম, সময় ও পরিবেশের কথা বলে সম্পর্কটি। এতোদিন যে সংসারকে বুকের মধ্যে আগলে রেখেছেন শাশুড়ি, বৌমা এসে নতুন করে একটু নৈপুণ্যের ছোঁয়া দিচ্ছে। সব কিছু তো ঠিক-ই আছে। তাহলে কেন এই সম্পর্কের বৈরিতা?

কী কারণে এই অমিল?

শাশুড়ি ও বৌমা সাধারণত যে বৈরিতার শিকার হন তার উৎস হচ্ছে ছেলেটি; যে কিনা একই সাথে শাশুড়ির সন্তান এবং বৌমার স্বামী। দুজনের মধ্যে প্রথমেই সমস্যা হয় “প্রাধান্য” নিয়ে। কাকে বেশি প্রাধান্য দেয়া উচিৎ? মাকে, নাকি স্ত্রীকে?

এক্ষেত্রে বিচার বিবেচনার ভার স্বামীর হাতে ছেড়ে না দিয়ে নিজেরা ভাবুন একটু। বাইরের দেশে বউ এবং শাশুড়ির সম্পর্ক হয় প্রতিবেশীর মত। কিন্তু আমাদের দেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একই বাসায় পরিবারের সদস্য হয়ে থাকতে হয়। তাই একটু পান দিয়ে চুন খসলেই শুরু হয় Ego Clash!

আপনার বাপের বাড়িতে যে পরিবেশে বড় হয়েছেন, শ্বশুরবাড়িতে সে পরিবেশ পাবেন না এটা ধরে নিয়েই গৃহপ্রবেশ করতে হবে। আবার, যে নতুন মেয়েটি আপনার সংসারে আসছে, তাকে সহজ ও স্বাভাবিক একটি পরিবেশ উপহার দেয়া শাশুড়ি হিসেবে আপনার দায়িত্ব।

আপনার বৌমার জীবনের প্রথম সংসার!

ভুলে গেলে চলবে না, আপনার ছেলের হাত ধরে যে মেয়েটি আসছে, তার প্রথম সংসার হচ্ছে আপনার ঘরটি। শাশুড়ি ও বৌমা সম্পর্কের প্রথম সমস্যা হচ্ছে এটি। অনেক শাশুড়ি আশা করেন, তার বৌমা ঘরে পা দিয়েই পাকা গৃহিণীর মত সামলাবে সব কিছু। কিন্তু এভাবে ভাবলে চলবে না। বৌমাকে শিখিয়ে পড়িয়ে নিতে হবে; তাহলেই না সে আপনার মত সংসারের হাল ধরবে।

পরিবর্তন নয়, পরিমার্জন করুন!

বৌমাকে বলছি। একটি নতুন সংসারে ঢুকে রাতারাতি সব কিছু পরিবর্তন করে সংসারের দৃশ্যপট পালটে দেয়া সিনেমা নাটকেই শোভা পায়, বাস্তবে নয়। আপনার শাশুড়ির নিজের হাতে গড়া সংসার আপনি চোখের নিমেষে পালটে দিতে পারেন না। তাই বলে কি সংসারে পরিবর্তন আনার অধিকার নেই আপনার? অবশ্যই আছে! শাশুড়ির সাথে বসে পরামর্শ করে ইতিবাচক পরিমার্জনগুলো করুন না! এতে আপনার শাশুড়িও খুশি থাকবেন, আপনারও ভাল লাগবে।

বৌমাকে হতে হবে মেয়ে!

শাশুড়ি ও বৌমা তখনই দূরে সরে যায় যখন তাদের সম্পর্ক বউ শাশুড়ির মত থাকে। বৌমাকে মেয়ের মত করে দেখতে হবে। মনে রাখবেন, আপনার বৌমা আপনার চেয়ে অনেক ছোট; বয়সে এবং অভিজ্ঞতায়। “মেয়ে হলে এমন করে বলতে পারতেন?” এই ধরনের কথার তলে কখনই পড়বেন না।

বৌমাকেও শাশুড়ির মেয়ের মত হতে হবে। মেয়ে কিন্তু প্রত্যেকটা কোথায় গাল ফুলিয়ে বসে থাকে না। ঝগড়া করে, তর্ক করে আবার ঠিক যত্ন-ও করে।

বৌমা আপনার ছেলের একটি অংশ!

শাশুড়ি ও বৌমা তখনই ভাল থাকে যখন তারা দুজন দুজনকে ছেলের অংশ মনে করে। আপনার বৌমাকে কষ্ট দিলে ছেলে যেমন ভাল থাকবে না, তেমনি স্বামীর মাকে কষ্ট দিয়ে সংসার সুন্দর রাখা সম্ভব নয়।

শেয়ার করুন!

গল্প, হাসাহাসি আর শেয়ার করলে সম্পর্ক কতটা মধুর হয়, জানেন? জানি আপনি পান খান না, তারপরও ছুটির দিনে দুপুরের খাওয়া শেষে পানের ডিব্বা নিয়ে চলে যান শাশুড়ির বিছানায়। দুজন মিলে একটু মিষ্টি পান খান আর চুটিয়ে আড্ডা মারুন।

আত্মীয়স্বজনকে প্রাধান্য দিন; দুজনই।

আপনার আত্মীয়স্বজনকে যত্ন করা যেমন আপনার বৌমার দায়িত্ব, তেমনি আপনার বৌমার দিকের স্বজনদের ঠিক মত যত্ন হচ্ছে কিনা, যোগাযোগ রাখছেন কিনা সেটা দেখাও আপনার দায়িত্ব। মনে রাখবেন, ভালবাসা বা যত্ন হচ্ছে বিনিময়ের ব্যাপার। এগুলো এক পাক্ষিক ভাবে হয় না।

 

Comments

comments

পূর্ববর্তী পোস্ট পরবর্তী পোস্ট

আপনি হয়ত এগুলো পছন্দ করতে পারেন