খাদ্য ও পুষ্টি, ভেষজ

সবুজ রঙের মুলা শাক রোগ বালাইকে করবে নির্বাক

“মুলা শাক! ছি! এ আবার মানুষে খায়! এটা তো গাধার খাবার।” অনেক মানুষের মধ্যেই এই ধরনের একটি নেতিবাচক ধারণা আছে মুলা শাক সম্পর্কে। স্বাদে অতো মজার না হলেও কাজে কিন্তু এটি অন্য সব শাককে ছাড়িয়ে যাবে।

আপনি হয়তোবা কখনো চিন্তাও করেননি তিক্ত স্বাদের এই শাকের রয়েছে এত গুণাবলী। বিভিন্ন রোগ অনুযায়ী এই শাকের উপকারিতা সম্বন্ধে নিচে বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো-

যে রোগগুলোর জন্য উপকারী

অ্যালার্জি

সালপ্রোফেন ইন্ডোল (sulporaphane indoles) নামে পরিচিত এই শাকটিকে অ্যান্টিক্যান্সার উপাদান সমৃদ্ধ সবজির তালিকায় ব্রোকলি এবং কপির পাশাপাশি অবস্থান দেওয়া যেতে পারে। মুলা শাক গ্রহণ করলে অ্যালার্জি ও হৃদপিণ্ডের বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এটা গ্রহণ করতে হবে।

ক্যান্সার

গবেষণায় পাওয়া গেছে যে সবুজ রং এর মুলা শাক (Wild radish leaves) ফ্রি র‍্যাডিকেল বা মুক্তমুলক পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে। গবেষকদের মতে, এতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যেগুলি শরীরের অ্যান্টি-অক্সিডেন্টকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে সাহয্য করে। ফলে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের আক্রমণ থেকে এটি শরীরকে রক্ষা করে থাকে।

ডায়াবেটিস মেলিটাস

মুলা শাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এছাড়াও এতে মলিবডেনাম, পটাসিয়াম, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স সমৃদ্ধ ফলিক এসিড রয়েছে। মুলা শাকে বিদ্যমান ফাইবার যেকোনো ফল থেকে প্রাপ্ত সুগার কম শোষণ করে এবং এর পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে সাহায্য করে।

সতর্কতা

পিত্ত থলিতে পাথর

যারা কিডনি বা পিত্তথলির বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন তাদের মুলা শাক এড়িয়ে চলা উচিৎ। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে অক্সালেট রয়েছে। অধিক পরিমাণে মুলা শাক গ্রহণ করার ফলে অক্সালেট জমাট বেধে শরীরে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া ক্যালসিয়াম শোষণে অক্সালেট বাধা সৃষ্টি করে থাকে।

Comments

comments

পূর্ববর্তী পোস্ট পরবর্তী পোস্ট

আপনি হয়ত এগুলো পছন্দ করতে পারেন