ঘরোয়া চিকিৎসা, জীবনযাত্রা, ভেষজ, রূপচর্চা

ব্রণ সমস্যা দূরে যাক!

ব্রণ এবং ব্রণের দাগ- এই দুই সমস্যার সমাধান খোঁজেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ব্রণের জন্য আপনার ত্বক দায়ী নয়। শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে অথবা ব্যাকটেরিয়ার আক্রমনের জন্য ব্রণ সমস্যা দেখা দেয়। সুতরাং ত্বকের উপর রাগ করে ত্বককে ক্ষত বিক্ষত না করে জেনে নিন ব্রণ সমস্যা সমাধানের কিছু প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া উপায়।

১। আপেলের রস ও ভিনেগার

আপেলের রস ও ভিনেগার আপনার ত্বকের পি এইচ এর মাত্রা ঠিক রাখে। ফলে ব্রণের জন্য দায়ি ব্যাকটেরিয়াগুলো মারা যায় ও ব্রণ সমস্যা কমে আসে।

২। দারুচিনি ও মধুর প্রলেপ

দারুচিনির মধ্যে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান থাকে এবং মধু একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক যা ছোট ছোট ব্রণ ও ব্রণ সমস্যা নির্মূল করে দেয়।

৩। দুধ বা টক দই এর সাথে মধুর মিশ্রণ

ধারনা করা হয় দুধের কারণে ব্রণ হতে পারে। হ্যা পারে। দুধ খেলে অনেক ব্যক্তির ব্রণ সমস্যা দেখা দেয়। তবে ত্বকে প্রয়োগ করলে এটি ব্রণ সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে। দুধ বা দই এর সাথে এক চা-চামচ মধু মিশিয়ে ত্বকে লাগালে ব্রণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

৪। ডিমের সাদা অংশ

এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং ভিটামিন পাওয়া যায় যা ব্রণ সমস্যা থেকে রক্ষার পাশাপাশি ত্বকের কোষগুলো পুনর্গঠন করে।

৫। পেঁপে

কাচা পেঁপে ত্বকের মৃত কোষ এবং অতিরিক্ত লিপিড সরিয়ে আমাদের ত্বককে আরও কোমল এবং মসৃণ করে তোলে। এর মধ্যে প্যাপিন নামক এনজাইম পাওয়া যায় যা জ্বালা-পোড়া ও পুঁজ তৈরির মাত্রা কমিয়ে ব্রণ সমস্যা সমাধান করে।

৬। কমলার খোসার পেস্ট

কমলার খোসায় ভিটামিন সি, সাইট্রিক অ্যাসিড এবং অ্যাসট্রিনজেন্ট থাকে। ভিটামিন সি নতুন কোষ সৃষ্টি করতে সাহায্য করে যা আপনার ত্বককে সুস্থ রাখে ও ব্রণ সমস্যা দূর করে।

৭। অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরায় জ্বালা-পোড়া কমানোর এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে যা ত্বকে শীতল ভাবের সৃষ্টি করে। শীতল ত্বকে ব্রণ সমস্যা অপেক্ষাকৃত কম দেখা যায়। তবে বাজার থেকে না কিনে বাসার আশেপাশে অ্যালোভেরা গাছ লাগানো ভাল।

৮। লেবুর রস

লেবুর রসে ভিটামিন সি এবং সাইট্রিক অ্যাসিড আছে যা ত্বকের সুরক্ষার জন্য খুবই উপকারী। এটি একটি অ্যাসট্রিনজেন্ট যা মৃত কোষগুলোকে আস্তে আস্তে সরিয়ে দেয়। তা ছাড়াও এটা প্রাকৃতিকভাবে ত্বক সাদা করে। ফলে ত্বকের লাল ভাব কমে যায়। লেবুর রস সরাসরি ব্যবহার না করে নিম বা চন্দনের ফেস প্যাকের সাথে মিশিয়ে নেয়া যায়। সরাসরি ব্যবহারে ত্বকে সাদা সাদা দাগ দেখা দিতে পারে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই দাগ চলে যায় ও ত্বক থেকে ব্রণ সমস্যা গায়েব হয়ে যায়।

৯। গরম ভাপ দেওয়া

গরম ভাপ নিলে অনেক ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তার মধ্যে ব্রণও একটি। গরম ভাপ ত্বকের ময়লা পরিষ্কার করে, লোমকূপগুলো খুলে দেয় এবং এভাবে ব্রণ সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

১০। রসুন

রসুনের মধ্যে থাকে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা আমাদের ত্বকের ব্রণ সমস্যা কমায়। এটা আপনি ত্বকেও ব্যবহার করতে পারেন আবার খাবারের সাথেও গ্রহণ করতে পারেন। রসুনের রস পেলে খুবই ভাল, কিন্তু না পেলে রসুন বেটে পানির সাথে পান করলেও হবে। তবে মনে রাখবেন, ত্বকের উপরে ব্যবহারের সময় অবশ্যই একটু পানি মিশিয়ে হালকা করে নেবেন।

১১। আলু

আলুতে প্রচুর পরিমাণে সালফার, পটাশিয়াম, ফসফরাস এবং ক্লোরাইড থাকে। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও থাকে যা ব্রণ সমস্যা সমাধানে এবং ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রাখে।

আপনি যতই সুন্দর ও লাবণ্যময়ী হন না কেন, মুখমণ্ডলে কয়েকটি ছোট ব্রণ আপনার চেহারার আকর্ষণ নষ্ট করে দিতে যথেষ্ট। আর অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, একবার ব্রণ সমস্যা দেখা দিলে তা নির্মূল করা সহজ নয়। উপরে উল্লিখিত উপকরণগুলো ঘরেই পাওয়া যায়। নিয়মিত এসব উপকরণ দিয়ে রূপচর্চা করে আপনিও ব্রণ সমস্যা থেকে দূরে থাকতে পারেন।

Comments

comments

Previous Post Next Post

You Might Also Like

Leave a Reply