খাদ্য ও পুষ্টি, জীবনযাত্রা, ডায়াবেটিস, ফিটনেস, বয়স্কদের স্বাস্থ্য, বিশেষ দিবস, সাম্প্রতিক, স্বাস্থ্য সমস্যা

ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে পাঁচ উপায়

১৮৯১ সালের এই দিনে জন্ম নিয়েছিলেন বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক বেনটিং এবং তিনি বিজ্ঞানী চার্লস বেস্টের সঙ্গে একত্রে ইনসুলিন আবিষ্কার করেছিলেন।আর তাই প্রতি বছর ১৪ নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস ফেডারেশন (আইডিএফ) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর আয়োজনে পালিত হয় বিশ্ব ডায়বেটিস দিবস। বাংলাদেশে ডায়বেটিক রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। আইডিএফ এর তথ্যানুযায়ী, ২০১৫ তে এ সংখ্যা দাড়িয়েছে ৭১ লক্ষ যা গত বছর ছিল ৫৯ লক্ষ। বিশ্বব্যাপী প্রতি দশজনের মধ্যে একজন ডায়বেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই প্রতিবছর নির্দিষ্ট একটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বিশ্বব্যাপী দিবসটি উদযাপন করা হয়। ২০১৫ সালের প্রতিপাদ্য বিষয়বস্তু হচ্ছে- “Healthy living starts at breakfast” অর্থাৎ ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রধান পদক্ষেপ হচ্ছে স্বাস্থ্যকর ও পরিকল্পিত সকালের নাশতা। এছাড়াও কিছু নিয়ম মেনে চলে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ডায়বেটিস সম্বন্ধে জানুন

ডায়বেটিস ধরা পড়ার পর সর্বপ্রথম আপনার কাজ হবে ডায়বেটিস সম্বন্ধে যতটুকু সম্ভব ধারণা নেওয়া। যত বেশি জানবেন তত সহজে আপনি এর প্রতিরোধ করতে পারবেন।

জীবন যাত্রায় কী ধরণের পরিবর্তন আনতে হবে?

কী ধরণের চিকিৎসা নিতে হবে?

ইত্যাদি প্রশ্নের উপযুক্ত উত্তর জেনে রাখুন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পরিবারের মধ্যে, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু বা আশেপাশের অন্য কারো ডায়বেটিস হয়ে থাকলে তার সাথে কথা বলুন।

ডায়বেটিসের চিকিৎসা নিন

আপনার ডাক্তারের কথা মেনে চলা এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যা বলবেন তা মেনে চলুন। সাধারণত ডাক্তার কিছু ঔষধ, জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তন এবং রক্তে সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের কিছু উপদেশ দিয়ে থাকেন।

নিয়ন্ত্রণ করুন এ বি সি

ডায়বেটিস চোখ, দাঁত, হৃৎপিণ্ড, স্নায়ুসহ আরও অনেক অঙ্গে প্রভাব ফেলে। তাই এ বি সি নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ হলো এইচবি এওয়ানসি, বি হলো ব্লাডপ্রেশার বা উচ্চ রক্তচাপ, সি হলো কোলেস্টেরল বা চর্বি।

ডায়বেটিক রোগীরা প্রায়ই রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরিমাপ করার জন্যে যে পরীক্ষাটি তারা বেশি করেন তা র‌্যানডম ব্লাড সুগার বা আরবিএস টেস্ট। তবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা গত দু-তিন মাসে কেমন ছিল তা সঠিকভাবে এ পরীক্ষায় আসে না। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন এইচবি এওয়ানসি পরীক্ষা। এটি রক্তের একটি টেস্ট, যা গত দু-তিন মাসের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রার গড় পরিমাণ নির্দেশ করে। গত কয়েক মাসে একজন ডায়াবেটিক রোগী কতটা সফলতার সঙ্গে নিজের রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করেছেন এই টেস্ট তাই নির্ণয় করে। এওয়ানসি ৭ শতাংশের নিচে থাকা মানে আপনার ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে।

ডায়বেটিস হলে সাধারণত ব্লাড প্রেশার বা উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয় যা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। বছরে অন্তত দুই থেকে চার বার রক্তচাপ পরীক্ষা করুন।

ডায়বেটিসের কারণে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি যার ফলে বিভিন্ন হৃদরোগ এবং স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।বছরে অন্তত একবার রক্তে কোলেস্টেরল পরীক্ষা করুন।

নিয়মানুবর্তিতা

  • বছরে ২-৪ বার ডাক্তার দেখান।
  • স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • নিয়মিত অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
  • বছরে অন্তত ২ বার দাঁত, চোখ এবং পায়ের পরীক্ষা করুন।
  • ধূমপান ত্যাগ করুন।

আগে থেকেই প্রস্তুত থাকুন

ডায়বেটিক রোগীদের বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়, যেমন- নার্ভ বা স্নায়ুর ক্ষতি হওয়া (পা অবশ, পায়ে জ্বালা-পোড়া করা, ক্ষত স্থান সারতে বেশি সময় লাগা ইত্যাদি), চোখের সমস্যা (দৃষ্টি শক্তি কমে যাওয়া, ঝাপসা দেখা, চোখে ব্যথা ইত্যাদি), কিডনির সমস্যা, হৃদরোগ এবং স্ট্রোক। ডায়বেটিস হওয়ার সাথে সাথেই এগুলো সৃষ্টি হয় না। শরীরের নিয়মিত যত্ন নিয়ে এগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব।

Comments

comments

Previous Post Next Post

You Might Also Like

Comments are closed.