খাদ্য ও পুষ্টি, জীবনযাত্রা, ফিটনেস, সামাজিক সচেতনতা

বাবা হতে ডায়েট প্রয়োজন !

আসলে সন্তান জন্ম দেওয়া থেকে শুরু করে প্রতিপালন সবক্ষেত্রেই বাবাদেরও করতে হয় অনেক কাজ ।কিন্তু তা কখন আলোচনায় আসেনা । সন্তানের জন্ম নেবার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মায়েদের প্রতি যে নজর ও খেয়াল থাকে সবার তা আমাদের সমাজ ও পরিবারে খুবি স্বাভাবিক। কিন্তু বাবাদেরও অনেক যত্নের প্রয়োজন। যা সবার অলক্ষ্যেই থেকে যায় ।  আসুন আজ আমরা জেনে নিব সুস্থ সন্তান জন্মদানে বাবার সুস্থতা ও তাদের কেমন জীবন যাপন হওয়া উচিৎ এই সম্পর্কে –  

বাবাদের যেসব বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবেঃ

১।খাবারঃ

আমেরিকার সিনসিনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এবার জানালেন ব্যতিক্রমী একটি তথ্য। এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সুস্থ সন্তান জন্মদানের জন্যে মায়ের মতো পিতার ডায়েটও সমান গুরুত্বপূর্ণ । কারণ সন্তানের স্বাস্থ্য কী রকম হবে সেটা নির্ভর করছে সেক্স করার আগে পিতা কি ধরনের খাবার খেয়েছেন তার ওপরে। পুরুষ মৌমাছির ওপর গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, তাদের খাবারে যদি কার্বোহাইড্রেট খুব বেশি এবং প্রোটিন কম থাকে তাহলে তাদের জন্ম দেওয়া সন্তানের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুব কম হয়। মানুষের জিনের সাথে এই মৌমাছির জিনের অনেক মিল রয়েছে। গবেষণা থেকে এটা স্পষ্ট যে সুস্থ শিশু জন্মদানের জন্যে পিতাকে কম কার্বোহাইড্রেট ও বেশি প্রোটিন আছে এধরনের খাবার খেতে হবে। সিনসিনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে জীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাইকেল পোলক এবং জশুয়া বেনয়েতের নেতৃত্বে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। অধ্যাপক পোলক বলেন, ‘বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে আমরা দেখেছি যে এ বিষয়ে মায়েরাই প্রচুর যত্নশীল হন। কিন্তু নবজাতকের স্বাস্থ্যের সাথে যে পিতারও ভূমিকা থাকতে পারে সেটা দেখে গবেষকগন অবাক হয়েছেন ।গবেষণায় জান যায় যে  শুধুমাত্র মায়ের খাওয়া-দাওয়ার উপরই নয়, সন্তানের স্বাস্থ্য বিশেষত যৌন স্বাস্থ্য নির্ভর করে বাবার খাদ্য তালিকার উপরেও। গবেষকদের দাবি, সন্তানের শুক্রানু কতটা সক্রিয় হবে তার অনেকটাই নির্ভর করে বাবার খাওয়া-দাওয়ার উপর। বাবা যত বেশি প্রোটিন খাবেন, সন্তানের শুক্রানুও তত বেশি সক্রিয় হবে! ‘বায়োলজি’ নামে একটি জার্নালে এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বাবার ডায়েটের পুষ্টিগুণের সঙ্গে ছেলের যৌন সক্রিয়তার সম্পর্ক বুঝতে একটি গবেষণা করেন। তাতেই দেখা যায়, যাদের রোজকার খাদ্য তালিকায় প্রথম থেকে হাই-প্রোটিনযুক্ত খাবার থাকে, তাদের ছেলের যৌন সক্ষমতা অন্যদের থেকে অনেকটাই বেশি হয়। বিশেষ করে, তাদের শুক্রানু অনেক সক্রিয় এবং শক্তিশালী হয়। কম মাত্রায় প্রোটিনযুক্ত ডায়েটের ক্ষেত্রে যা হয় না।
তবে পাশাপাশি এই জার্নালে এটাও বলা রয়েছে যে, সন্তানের শুক্রানু কতটা সক্রিয় হবে তা শুধুমাত্র প্রোটিনের উপর নির্ভর করে না, জেনেটিক ফ্যাক্টরও এর জন্য দায়ী। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক জানান, বাবার জিনের অংশই ছেলের মধ্যে যায়। ফলে যৌন সক্ষমতা জিনের উপর অনেকটাই নির্ভর করে।

২। ঘুমঃ বাবাদের সুস্থ থাকতে হলে অবশ্যই পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। কারন ঘুমের স্বল্পতা শারীরিক অবসাদ তৈরি করে। ফলে শারীরিক দুর্বলতা বৃদ্ধি পায় । এতে করে হরমনাল পরিবর্তন দেখা যায় যা অনাগত সন্তানের জন্য ভাল নয়। তাই পর্যাপ্ত ঘুম বাবাদের জন্য খুবি জরুরী।

৩।ব্যায়ামঃ সুগঠিত শরীর  একটি সুস্থ সন্তানের প্রথম শর্ত। তাই শরীর ঠিক রাখতে গেলে শারীরিক অনুশিলন খুবি জরুরী। দৈনিক ব্যায়াম করলে শরীর ও মন দুটোই ভাল থাকবে । বাবা হাসি খুসি থাকলে মা ও সন্তান খুসি থাকবে স্বাভাবিক ভাবেই ।

৪।খেলাধুলাঃ সারাদিনের পরিশ্রমের পর নিরেট কিছু বিনোদন বাবা এবং মা দুজনের জন্যই প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে খেলাধুলা করা বাবাদের জন্য আরও বাড়তি পাওনা। কারন এমন শারীরিক অনুশিলনে মন ও প্রান দুটোই সতেজ থাকে । ফলে প্রশান্তি ও আনন্দ মানসিক-শারীরিক সুস্থতার অন্যতম নিয়ামক যা ভবিষ্যতের অনাগত সন্তানের জন্যও ফলপ্রসূ ।

৫।মেডিটেশানঃ  মেডিটেশান এমন এক পদ্ধতি যা মনকে চাঙ্গা ও নিয়ন্ত্রন করে। ফলে মানসিক প্রশান্তির বিস্তার অন্যান্য কাজেও দেখা যায়। এই পদ্ধতি ধারাবাহিক ভাবে চালাতে থাকলে সব কাজ ও জীবনাচরণ অনেক সুশৃঙ্খল হয় । জীবনের এই নিয়মানুবর্তিতা বাবাদের আরও দায়িত্ব নিতে উৎসাহ যোগায়। ফলে সন্তানেরাও বাবার মতো দায়িত্ববাণ ও সুশৃঙ্খল জীবনের অধিকারি হতে শেখে । ফলে সন্তানদের জীবনবোধ অনেক গভীর হয়।

 

উপরের জীবনাচরণ গুলো আগামীতে যারা বাবা হতে চান তাদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় । এবার দেখি কি কি  পরিহার করতে হবে-

 

 ১। ধুমপানঃ যারা বাবা হতে চান তাদের জন্য সুধু নয় সবার শারীরিক সুস্থতার জন্য ধূমপান বর্জন করা উচিৎ।

২।এলকোহলঃ যে কোন ধরনের মাদকাসক্তি  মানুষের জন্য ক্ষতিকর ।কিন্তু যারা বাবা হতে চান তাদের জন্য তাদের অনাগত সন্তানের জন্য বেশি বেশি করে সুস্থ জীবন যাপনের অনুশীলনের মধ্যে থাকতে হবে। এক্ষেত্রে ধর্মীয় জিবনাচার আপনাকে আরও আত্মিক শক্তি ও প্রশান্তি যোগাবে ।

৩।খাবারে যত্নশীল ঃ খাবারের ব্যাপারে আরও একটু দায়িত্ববান হতে হবে। বেশী বেশী শাক সবজী এবং প্রোটিনের মাত্রা বাড়াতে হবে। ভাজা ভুজি পরিহার করতে হবে।

৪। বিষণ্ণতা ঃ যে কোন পরিস্থিতিতে নিজের মানসিক অবস্থা ধরে রাখার কৌশল  অবলম্বন করতে হবে। কারন বাবাদের দায়িত্ব বেশী বলে নিজের অবসন্নতাকে প্রাধান্য দেয়া উচিৎ হবেনা।

৫। ব্যায়ামঃ শারীরক সুস্থার জন্যই ব্যায়াম দরকার। তাই ব্যায়াম বাদ দেয়া যাবেনা।

৬। বিনোদনঃ সপ্তাহের একদিন হলেও সবাই মিলে একজায়গায় আড্ডা দিন বা খোলামেলা আলোচনা করুন । নিজেদের মধ্যে ভাবের আদান প্রদান যত সহজ করবেন ,যত আনন্দের পরিবেশ তৈরি করবেন , মন খুলে হাসবেন মন ততই প্রসান্ত হবে । শরীর ভাল থাকবে ।ফলে অনাগত সন্তানও হবে অনেক প্রাণবন্ত। কাজেই বিনোদন বাদ দেয়া যাবেনা ।

 

 

Comments

comments

পূর্ববর্তী পোস্ট পরবর্তী পোস্ট

আপনি হয়ত এগুলো পছন্দ করতে পারেন