জীবনযাত্রা, নবজাতক এবং শিশুর যত্ন, সামাজিক সচেতনতা, সাম্প্রতিক

বাচ্চাদের ভর্তিযুদ্ধ

শিরোনামটিই বলে দিচ্ছে ব্যাপারটি কোন পর্যায়ে পোঁছে গেছে। বাচ্চাদের ভর্তিযুদ্ধ, একটু স্বস্তিতে নিঃশ্বাস ফেলার সময়ও যেন নেই। বয়স ৪-৫ হওয়ার আগে থেকেই কাঁধে বই এর বস্তা চাপিয়ে তাদেরকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কোচিং। ক’দিন পর এমন অবস্থা হলেও অবাক হবার কিছু রইবে না যে বাচ্চারা “মা” ডাকার আগে “অ আ ক খ” শিখছে!

প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই যুগে একটু পিছিয়ে পড়লেই ছিটকে পড়ে যাবে আপনার সন্তান। আবার বেশি চাপের কারণে তাদের শৈশব নষ্ট হোক এটাও নিশ্চয় আপনি চান না। এক্ষেত্রে কোনো ভালো স্কুলে ভর্তি করাটা অত্যন্ত জরুরি। চলুন দেখে নেই ভর্তিপরীক্ষার এই যুদ্ধ থেকে কীভাবে আপনার সন্তানকে বাঁচাবেন-

স্কুল নির্বাচন

বাচ্চাদের ভর্তিযুদ্ধ জিততে সবচেয়ে প্রথমে যেটি দরকার সেটা হলো আপনার সন্তানের জন্য সঠিক স্কুল নির্বাচন করা। সবার ক্ষমতা এক ধরনের হয় না। কেউ খুব ভাল আবার কেউ মোটামুটি। সে অনুযায়ী তাদের কাছে আশা রাখা উচিৎ। আপনার সন্তান যদি পড়াশুনায় দুর্বল হয় তাহলে তাকে দেশের সবচেয়ে ভাল স্কুলে ভর্তি করার আশা না রাখায় শ্রেয়। এতে করে তার উপর মানসিক চাপ কম থাকবে এবং সে অন্য কোন দিকে ভাল করতে পারবে।

স্কুল হতে হবে বাড়ির কাছে এবং আপনার সন্তান ও আপনার নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী। অতিরঞ্জিত কিছু করতে গিয়ে আপনার সন্তানের জীবন নষ্ট করবেন না। নিজে জীবনে যা হতে পারেন নি, শুধুমাত্র নিজের আশা পূরণের জন্য সন্তানকে সেভাবে গড়ে তোলার অন্যায় চেষ্টা করবেন না।

প্রস্তুতি

স্কুল নির্বাচন করা হয়ে গেলে সন্তানকে প্রস্তুত করান। বাচ্চাদের ভর্তিযুদ্ধ জিততে বিভিন্ন ভাবে আপনার সন্তানকে প্রস্তুত করা সম্ভব তবে খেয়াল রাখবেন এতে যেন তার উপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

সাধারণ সময়

বাচ্চাকে যে স্কুলে ভর্তি করতে চান সে স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা সম্বন্ধে ভাল করে জেনে নিন। সে অনুযায়ী বাচ্চাকে প্রস্তুত করান। তাকে অল্প অল্প করে কোন জিনিস বোঝাবেন এবং জিজ্ঞাসা করবেন।

পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করবেন। তাকে ভর্তিপরীক্ষা সম্বন্ধে অবগত রাখবেন।

দৈনিক অর্থসহ কিছু শব্দ শেখাবেন।

নামতা ও ছড়া শেখান।

পরীক্ষার ৬ মাস আগে

স্কুলের ভর্তি পরীক্ষার মতো করে একটি পরীক্ষা নিন। দেখুন আপনার সন্তান ভর্তিযুদ্ধ পার করার জন্য কতটা প্রস্তুত। বাচ্চার প্রস্তুতি খুব একটা ভাল মনে না হলে বাসায় প্রাইভেট টিউটর রাখতে পারেন।

৩-৪ মাস আগে

শুধুমাত্র ভর্তি পরীক্ষায় যে ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে সেগুলো ঠিক করে তার উত্তর লেখা শেখাবেন। যদি খুব বেশি সমস্যা না থাকে তাহলে পরীক্ষার ৩ মাস আগে থেকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করা ভাল।

এক মাস আগে

আপনার সন্তান সব বিষয়ের সঠিক উত্তর সময়ের মধ্যে দিতে পারছে কি? যদি পারে তাহলে আর একটু চাপ দিন আর না পারলে পারার জন্য উৎসাহিত করুন।

এক সপ্তাহ আগে

অনেকেই ভাবে যে পরীক্ষার আগে যত পড়বে তত ভাল পরীক্ষা হবে। আসলে পরীক্ষার আগে শুধু রিভিশন দিতে হবে। পড়ার জন্য তেমন কিছু বাকি থাকবে না। এখন থেকে খেয়াল রাখবেন যেনো আপনার সন্তান বেশি চিন্তিত না হয়, ঠিকমত ঘুমায় এবং খাবার গ্রহণ করে।

পরীক্ষার দিন

কাল শুরু আসল ভর্তিযুদ্ধ। পরীক্ষার আগের রাতে সুন্দর একটি ঘুম দিয়ে সকালে উঠে নাস্তা করে পরীক্ষার হলের দিকে রওনা হতে হবে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার অন্তত আধা ঘণ্টা আগে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করা উচিৎ। পরীক্ষার সময় নার্ভাস বা ভয় পাওয়া যাবে না। মাথা ঠাণ্ডা করে পরীক্ষা দিলে পরীক্ষায় ভাল করার সম্ভাবনা অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়।

Comments

comments

পূর্ববর্তী পোস্ট পরবর্তী পোস্ট

আপনি হয়ত এগুলো পছন্দ করতে পারেন