গবেষণা, জীবনযাত্রা, ফিটনেস, সাম্প্রতিক, স্বাস্থ্য সমস্যা

ফ্লুরোকুইনোলন ; অ্যান্টিবায়োটিক যখন প্রাণনাশী!

চিকিৎসকগণ যে অ্যান্টিবায়োটিকগুলো প্রায়শই সেবন করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন তাদের মধ্যে ফ্লুরোকুইনোলন অন্যতম। আমরা জানি, অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের কম বেশি কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। তবে ফ্লুরোকুইনোলনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মাত্রা অধিকাংশ ক্ষেত্রে শরীরে স্থায়ী সমস্যা বা মৃত্যুর মত মারাত্মক হতে পারে। এই ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিবেচনা করে সাধারণত ফ্লুরোকুইনোলন অতিমাত্রার ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন (যেগুলো অন্য কোন ঔষধে নিরাময় হয় না) এর চিকিৎসায় দেয়া হয়। এছাড়াও কিছু সাধারণ সমস্যা যেমন সাইনুসাইটিস, ইউরিনারি ট্রাক্ট এবং কানের ইনফেকশনের জন্য এই অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়ে থাকে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য এবং ঔষধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ইউএস এফডিএ) এর মতে, ইদানিং ফ্লুরোকুইনোলন এতো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে যে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মানুষের অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে উঠছে। ফ্লুরোকুইনোলন ব্যবহারকারী রোগীদের নিকট হতে এই ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বর্ণনা শুনে এফডিএ  যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সম্প্রতি এফডিএ   বিভিন্ন রোগ ব্যাধি যেমন আনকমপ্লিকেটেড ইউরিনারী ট্রাক্ট ইনফেকশন বা মূত্রনালির সংক্রমণ, অ্যাকিউট ব্যাকটেরিয়াল সাইনুসাইটিস এবং ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত এইসব অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে বিশদ গবেষণা করে। ফ্লুরোকুইনোলন গ্রুপের ঔষধ যেমন সিপ্রোফ্লোক্সাসিন, মক্সিফ্লোক্সাসিন এবং লিভোফ্লোক্সাসিন এসব রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এফডিএ মতে, এসব ঔষধ মারাত্মক সব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য দায়ী। এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে টেনডনের কিছু প্রদাহ (টেন্ডন রাপচার, টেন্ডনাইটিস),  মাংসপেশি দুর্বলতার অসুখ (মিসথেনিয়া গ্রাভিস), কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ঘটিত অসুখ, পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি, ফটোটক্সিসিটি, হাইপারসেন্সিটিভিটি, ইসিজির জটিলতা (কিউ টি প্রোলংগেশন) ইত্যাদি অন্যতম।

ত্রিশ জনেরও বেশি সংখ্যক রোগী জনসম্মুখে এই অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রবলতা সম্পর্কে তুলে ধরেন। ৫৯ বছর বয়সী বোস্টন নিবাসী আন্দ্রেয়া সিয়ানি এদের মধ্যে একজন। তিনি বলেন, নিউমোনিয়ার চিকিৎসায় ডাক্তার তাকে লেভাকুইন (লিভোফ্লোক্সাসিন) সেবনের পরামর্শ দেন। এই ঔষধটি গ্রহণের পূর্বে তিনি শারীরিকভাবে ঠিক ছিলেন। যেদিন থেকে ফ্লুরোকুইনোলন গ্রুপের ঔষধটি খাওয়া শুরু করেন সেদিন থেকেই তার টেন্ডনগুলো ভারসাম্যহীন হয়ে যেতে থাকে। পুরো ১ বছর তিনি দুঃসহ যন্ত্রণায় ভোগেন। তখন থেকে আন্দ্রেয়া স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেন না; তাকে ক্র্যাচ ব্যবহার করতে হয়। সম্প্রতি আরও চার জন ব্যক্তির কথা জানা যায় যারা ফ্লুরোকুইনোলন জাতীয় ঔষধ গ্রহণ করে দীর্ঘস্থায়ী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শিকার হয়েছেন।

এদিকে ফ্লুরোকুইনোলন জাতীয় ঔষধ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, সাধারণত খুব মারাত্মক ইনফেকশন বা প্রাণনাশক রোগের চিকিৎসায় এসব ঔষধ জরুরী হয়ে পড়ে। কোম্পানিগুলোকে এসব ঔষধ বাজারে ছাড়ার আগে এগুলোর গায়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বর্ণনা স্পষ্টভাবে লিখে দিতে অনুরোধ করেছে এফডিএ  যাতে করে ডাক্তার এবং রোগী উভয়ই এই ব্যাপারে অবগত হতে পারে।

সুত্রঃ মেডস্ক্যাপ

Comments

comments

Previous Post Next Post

You Might Also Like

Comments are closed.