পহেলা বৈশাখে আপনার প্রস্তুতি নিয়ে কি ভাবছেন?
জীবনযাত্রা, বিশেষ দিবস, সামাজিক সচেতনতা, সাম্প্রতিক

পহেলা বৈশাখে আপনার প্রস্তুতি নিয়ে কি ভাবছেন?

পহেলা বৈশাখে আপনার প্রস্তুতি নিয়ে কি ভাবছেন? পহেলা বৈশাখ মানেই শুধু আনন্দ উৎসব নয়। এই দিনে অনেক অনাকাংক্ষিত ঘটনা ঘটে যা আমাদের কারোই কাম্য নয়। তাই আমরা যদি আগে থেকে এই দিনটিকে ঘিরে প্রস্তুতি নেই তাহলে পহেলা বৈশাখ আমাদের জীবনে বয়ে আনবে সুখ- সম্মৃদ্ধি ও অনাবিল প্রশান্তি।

আসুন আমরা জেনে নেই পহেলা বৈশাখে খাবার, পোশাক- পরিচ্ছদ ও সার্বিক প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত।

বৈশাখের খাবারঃ পহেলা বৈশাখের আনন্দকে আরো স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর করতে পুষ্টির কথা মাথায় রেখে খাবার খাবেন। বৈশাখে সবার প্রিয় হল পান্তা ভাত। পান্তা ভাত সহজে হজম হয় তাই সবাই খেতে পারেন তবে যাদের ওজন বেশি ও রক্তে গ্লুকোজ বেশি তারা অল্প পরিমাণে পান্তাভাত খেতে পারেন। তাছাড়াও চিড়া, মুড়ি, খই বৈশাখের অন্যতম খাবার। পিঠা, মোয়া, নাড়ু, ও নানা ধরনের মিষ্টি এই সময়ের আকর্ষনীয় খাবার।

বাঙ্গালির পহেলা বৈশাখ মানেই ইলিশ মাছ। আসুন আমরা এই কথাটাকে না বলি। বৈশাখ মাস ইলিশের প্রজনন সময়। তাই এই সময় ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকা উচিত। আমরা ইলিশের পরিবর্তে অন্য যেকোন মাছের সাথে পান্তা খেতে পারি। তাছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ভর্তা, শাক ও মাছের পাতুরি, সবজি ভর্তা বা বড়া ইত্যাদি নানা আয়োজন করা যায় বৈশাখের খাবারে।

আমরা বৈশাখে বন্ধু- বান্ধব বা আত্মীয় স্বজনদের বাসায় বেড়াতে যায়। এসময় আমাদের খাবারের বিষয়ে অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত।

নানা ধরনের ফলমূলঃ বৈশাখে শরীরে ভিটামিন ও মিনারেল এর অভাব পূরনের জন্য বাঙ্গি, কাঁচা আম, তরমুজ, আনারস ইত্যাদি দেশীয় ফল খাওয়া যেতে পারে।

তরল জাতীয় খাবারঃ বাংলা দিনপঞ্জিকার একটি বড় দিন পহেলা বৈশাখ।  সারাদিনের ঘুরাঘুরিতে যাতে পানি শূন্যতা দেখা না দেয় সেই বিষয়টা খেয়াল রাখতে হবে। এজন্য মাঝে মাঝেই পানি পান করতে হবে। তাছাড়াও কাঁচা আমের জুস, তরমুজের জুস, ডাবের পানি, জিরা পানি, দইয়ের লাচ্ছি ইত্যাদি পানীয় খেতে পারেন।

বৈশাখের পোশাক- পরিচ্ছদ ও সাজসজ্জাঃ বৈশাখে লাল- সাদা রং এর পোশাকই সবার পছন্দ। তবে বৈশাখের গরমে ভারী কোন পোশাকের চেয়ে আরামদায়ক পোশাক পরাই শ্রেয়। বাঙ্গালী মেয়েদের কাছে সাজসজ্জা খুবই পছন্দের বিষয়। বৈশাখের ভীর আর গরমের মধ্যে অয়েল ফ্রি বা ওয়াটার প্রুফ মেকআপে আপনি স্বস্তি খুঁজে পাবেন। চোখে লাগাতে পারেন হালকা আই শ্যাডো আর মাশকারা। বৈশাখের সাজে চুলে করতে খোঁপা বা বেণী।

বৈশাখের সতর্কতাঃ এই দিনে যেকোনো ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেটি হতে পারে কোথাও চোট পাওয়া, হতে পারে যৌন হয়রানি। আমরা অনেক সময় শিশুদেরকে নিয়ে বৈশাখের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। এজন্য আপনার সঙ্গে থাকা শিশুর পকেটে চিরকুটে আপনার বাসার ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় মোবাইল নম্বর লিখে রাখুন।

বৈশাখের তাপদাহ থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সানস্ক্রিনের ব্যবহার অপরিহার্য। বৈশাখে যখন তখন বৃষ্টি হয় এজন্য অবশ্যই সাথে ছাতা রাখা ভালো।

বৈশাখ মানেই বাঙ্গালির সর্বজনীন উৎসব। এই বাহার আর অন্যকোন উৎসবে আসে না। তাই আসুন আমরা বৈশাখের আনন্দকে আরো বহুগুণে বাড়িয়ে দিতে আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহন করি।

Comments

comments

Previous Post Next Post

You Might Also Like

Comments are closed.