পরোক্ষ ধূমপান কতটা মারাত্মক?
জীবনযাত্রা, পরিবেশ দূষণ, ফিটনেস

পরোক্ষ ধূমপান কতটা মারাত্মক?

নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এটা জেনে শুনেই ধূমপায়ীরা ধূমপান করে থাকে। কিন্তু এই ধূমপান পরোক্ষ ধূমপান রূপে আপনার কাছের মানুষগুলোর উপর যে কি মারাত্মক প্রভাব ফেলছে তা জানতে পারলে আপনি শিউরে উঠবেন!

পরোক্ষ ধূমপান কি?

পরোক্ষ ধূমপান বলতে বোঝায় অন্য কারো ধূমপানের ধোঁয়া গ্রহন করা। ধূমপানের সময় নির্গত ধোঁয়া বাতাসে ৪ ঘন্টা পর্যন্ত থাকে। এই সময় সেখানে যে নিঃশ্বাস গ্রহন করবে সেই পরোক্ষ ধূমপানের স্বীকার হবে।

পরোক্ষ ধূমপান কতটা ক্ষতিকর?

ধূমপানের ধোঁয়াতে প্রায় ৪০০০ কেমিক্যাল থাকে যার মধ্যে ২৫০ টি বিষাক্ত এবং ৫০ টি ক্যান্সার সৃষ্টির পদার্থ পাওয়া যায়। এরকম পরিবেশে মাত্র ১ মিনিট নিঃশ্বাস নিলেই আপনার ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা থাকে।

চলুন, পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি করার মাত্রা সম্পর্কে একটু ধারণা নেয়া যাক।

  • ৫ মিনিট পরোক্ষ ধূমপান আমাদের অ্যাওরটা শক্ত এবং অনমনীয় করে দেয়।
  • ২০-৩০ মিনিট ধূমপান দূষিত এলাকায় থাকলে রক্ত জমাট বেধে যেতে পারে এবং রক্তনালীতে ফ্যাট জমতে পারে যা হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
  • ২ ঘণ্টার উপরে থাকলে হৃদস্পন্দনে ব্যাঘাত ঘটে যা মারাত্মক সব হৃদরোগের কারণ হতে পারে।

এছাড়াও পরোক্ষ ধূমপান-এর ফলেঃ

  • যকৃতের ক্যান্সার এবং যকৃতের রোগ যেমন সি ও পি ডি, এমফিসেমা, অ্যাস্থামা এবং ক্রনিক ব্রংকাইটিস্‌ হতে পারে। যারা ধূমপান করেন না তাদের জন্য পরোক্ষ ধূমপান যকৃতের ক্যান্সারের সম্ভাবনা ২০-৩০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়।
  • হৃদরোগ
  • চোখ এবং নাকে অস্বস্তি। সাইনাস এবং রেসপিরেটরি ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

পরোক্ষ ধূমপান কাদের জন্য বেশি ক্ষতিকর?

শিল্পকারখানা, বারটেন্ডার এবং রেস্তোরার কর্মচারীঃ

ধূমপান বেশি হয় এমন জায়গায় বিশেষ করে যারা শিল্পকারখানা, বারটেন্ডার এবং রেস্তোরায় কর্মরত আছে তারা পরোক্ষ ধূমপান দ্বারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গর্ভবতী মাঃ

পরোক্ষ ধূমপান শুধু গর্ভবতী মায়েরই ক্ষতি করে না, সাথে সাথে তার গর্ভে থাকা শিশুরও ক্ষতি করে। পরোক্ষ ধূমপানের ফলে গর্ভবতী মা প্লাসেন্টা প্রিভিয়া, প্লাসেন্টা অ্যাব্রাপশন, গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব এবং একটপিক প্রেগনেন্সিতে আক্রান্ত হতে পারে। অক্সিজেনের অভাব, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি এবং অকাল প্রসবের জন্যও পরোক্ষ ধূমপান দায়ী।

শিশু

যেহেতু বড়দের মত বাচ্চাদের ধূমপানমুক্ত এলাকায় গিয়ে নিজেদের নিরাপদ রাখার ক্ষমতা থাকে না, সেহেতু তারা পরোক্ষ ধূমপান দ্বারা অপেক্ষাকৃত বেশি আক্রান্ত হয়। যেমনঃ

  • সর্দি কাশি এবং রেসপিরেটরি ইনফেকশন
  • স্বল্প এবং অসম্পূর্ন যকৃত গঠন
  • অ্যাজমা এবং দীর্ঘস্থায়ী কাশি
  • দীর্ঘস্থায়ী বা পুনঃ পুনঃ কানে ইনফেকশন
  • এস আই ডি এস
  • উচ্চ রক্তচাপ
  • আচার ব্যবহার এবং মনযোগে সমস্যা
  • ছানি পড়া
  • দুর্বল দাঁত
  • বাচ্চাদের ধূমপানের আগ্রহ বেড়ে যাওয়া

কিভাবে পরোক্ষ ধূমপান থেকে নিজেকে রক্ষা করবেন?

বর্তমানে পরোক্ষ ধূমপান থেকে নিজেকে রক্ষা করা খুবই কঠিন। তবে একটু সচেতন হলেই আমরা অনেকাংশে পরোক্ষ ধূমপান থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারি।

  • বাসায় ধূমপান থেকে বিরত থাকুন। কোন অতিথি যদি ধূমপান করে তাহলে লোকসমাগম থেকে দূরে কোন নির্দিষ্ট স্থানে তাকে ধূমপান করতে অনুরোধ করুণ।
  • ধুমপায়ীদের ‘স্মোকিং কোট’ ব্যবহার করা উচিৎ।
  • ঘরে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা করুন।
  • বাসায় সিগারেটের ছাইদানি রাখা উচিৎ নয়।
  • বাসার কাজের লোকদের বাচ্চাদের সামনে ধূমপান করতে নিষেধ করুণ।
  • আপনার কর্মস্থলে যদি ধূমপান করায় কোনরূপ নিষেধাজ্ঞা না থাকে সেক্ষেত্রে কোম্পানির নিয়ম পরিবর্তনের জন্য আবেদন করুণ।
  • আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের আপনার আশেপাশে ধূমপান করতে অনুৎসাহিত করুন।
  • কোন হোটেলে অবস্থান করলে ধূমপানমুক্ত কক্ষে থাকুন।

পরোক্ষ ধূমপান ইংরেজিতে Second Hand Smoking নামে পরিচিত। আপনারা জেনে অবাক হবেন, Third Hand Smoking-এর মাধ্যমেও আপনার প্রিয় মানুষটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে মারাত্মক ভাবে। আপনি যে পোশাক টি পড়ে ধূমপান করছেন, সেটার সংস্পর্শে এসেও আপনার আশেপাশের ব্যক্তি আক্রান্ত হতে পারে। এই অবস্থাকে Third Hand Smoking বলে। তাই ধূমপান বর্জন করুন; পরিবার ও বন্ধুদের নিরাপদে রাখুন।

Comments

comments

Previous Post Next Post

You Might Also Like

Leave a Reply