ঘরোয়া চিকিৎসা, ঘরোয়া টিপস্‌, জীবনযাত্রা, ফিটনেস, স্বাস্থ্য সমস্যা

নাক বন্ধ হয়ে থাকলে করণীয় কী?

শীত পড়ে গেছে। আর শীত এলেই আমাদের শরীরে কিছু শীতকালীন সমস্যাও দেখা দিতে শুরু করে। এই যেমন, ঠান্ডা বা শীতে অনেকেরই নাক বন্ধ হয়ে যায়। এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে, এটি একটি গুরুতর সমস্যা! নাক বন্ধ থাকলে কোনো কাজেই মনোযোগ আসেনা। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে; অস্বস্তি বোধ হতে থাকে।

নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া অতিরিক্ত শ্লেষ্মা ও নাক আটকে যাওয়া হিসেবেও পরিচিত। নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া বলতে নাকের ভিতরের অংশ বন্ধ হয়ে যাওয়াকে বোঝায়। সাধারণত রক্তনালীর ইনফ্লামেশন বা প্রদাহের জন্য নাকের ভিতরের আবরণ সৃষ্টিকারী ঝিল্লির ফুলে ওঠার কারণে এই সমস্যা হয়ে থাকে। এই সমস্যার সাথে সর্দি দেখা দিতে পারে, নাও দিতে পারে।

নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে প্রাপ্তবয়স্ক ও বেশি বয়সের শিশুদের কিছুটা বিরক্তির সৃষ্টি হয়। তবে অল্পবয়স্ক শিশুদের জন্য এই সমস্যা গুরুতর হতে পারে। সমস্যাটির জন্য শিশুদের শ্বাসকষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণগুলো কী?

  • সাধারণ সর্দি কাশি
  • ক্রনিক সাইনুসাইটিস
  • ওটাইটিস মিডিয়া
  • অ্যালার্জি
  • ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ
  • অ্যাজমা
  • অ্যাকিউট সাইনুসাইটিস
  • অ্যাকিউট ব্রংকাইটিস

নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা কী?

সমস্যাটি তীব্র রূপ ধারণ করলে অ্যালার্জির ঔষধ ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নাকের স্প্রে ব্যবহার করতে হতে পারে।

সর্দি-কাশি হওয়ার শেষ পর্যায়ে যে কফ ও নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা থাকে, তা কিভাবে দূর করা যায়?

এই সমস্যা দূর করার জন্য বেশ কিছু ঔষধ পাওয়া যায়, যেগুলি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াও গ্রহণ করা যেতে পারে। এগুলি সমস্যাটির উদ্রেককারী কারণকে প্রশমিত করে। কাশির সাথে শ্লেষ্মা হলে এক্সপেক্টোর‍্যান্ট ও ডেক্সট্রোমেথরফ্যান (expectorant & dextromethorphan) গ্রহণ করা যেতে পারে। এক্সপেক্টোর‍্যান্ট সর্দির নিঃসরণ করতে এবং ডেক্সট্রোমেথরফ্যান (dextromethorphan) কাশি সারাতে সাহায্য করে।

নাক বদ্ধ হওয়া দূর করতে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়?

ঘরে বা গাড়িতে ধূমপান না করা। কারণ এর ফলে আপনার শিশুর অ্যালার্জির সমস্যা হতে পারে।

যেসব গৃহপালিত পশুর সংস্পর্শে গেলে অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, সেগুলির সংস্পর্শে না যাওয়া।

শিশুদের বেশি পরিমাণে পানীয় পান করতে বলা।

হিউমিডিফায়ার দিয়ে বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধি করা। তবে ঘরে যেন স্যাঁতসেতে ভাব সৃষ্টি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

বাষ্প স্নান (Steam bath) শিশুদের জন্য উপকারী হতে পারে, কারণ এর ফলে নাকের মধ্যে জমে থাকা শ্লেষ্মা দূর হয়।

পারফিউম ব্যবহার না করা; কারণ এর ফলে অ্যালার্জিজনিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

Comments

comments

পূর্ববর্তী পোস্ট পরবর্তী পোস্ট

আপনি হয়ত এগুলো পছন্দ করতে পারেন