খাদ্য ও পুষ্টি, গবেষণা, জীবনযাত্রা, নবজাতক এবং শিশুর যত্ন, ফিটনেস, সামাজিক সচেতনতা, স্বাস্থ্য সমস্যা

ঝুঁকিপূর্ণ খাবার থেকে বাচ্চাদের দূরে রাখুন……

‘আমার বাচ্চা কিছুই খেতে চায় না’- কোন বাবা মা এমন অভিযোগ করেন না বলুন? প্রতি বেলায় বাচ্চাকে খাওয়ানো যেন এক একটা সংগ্রাম। এই অবস্থায় কালে ভদ্রে আপনার বাচ্চা যখন কিছু খেতে চায়, তখন আপনি সেটাকে আশীর্বাদ ভেবে নিয়ে খাওয়াতে শুরু করেন তার পছন্দের খাবার। কখনও কি ভেবে দেখেছেন খাবারটি ঝুঁকিপূর্ণ কি না? আজ আপনাদের জানাবো, কোন ধরনের খাবার বাচ্চাদের না খাওয়ানোই ভাল।

কাঁচা দুধ

অনেকেই বিশ্বাস করেন, কাঁচা দুধের পুষ্টি উপাদানগুলো পাস্তুরিত বা জ্বাল দেয়া দুধের তুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশি অটুট থাকে। অর্থাৎ কাঁচা দুধ অন্যান্য দুধের থেকে বেশি পুষ্টিকর। কিন্তু গবেষণায় পাওয়া গেছে, শিশুদের জন্য কাঁচা দুধের থেকে পাস্তুরিত দুধ বেশি উপকারী; কাঁচা দুধ শিশুর শরীরে বিভিন্ন খাদ্যজনিত সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। কারণ একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির মত একটি শিশুর ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অতটা সবল হয় না। তাই ধরে নেয়া যায়, কাঁচা দুধ শিশুদের জন্য যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ খাবার ।

জুস

বাজারে আম, আপেল, কমলা ইত্যাদি বিভিন্ন স্বাদ, রঙ ও ধরনের জুস পাওয়া যায়। দেখতে অনেক পুষ্টিকর মনে হলেও এগুলোর অধিকাংশই অতিরিক্ত চিনি দিয়ে কৃত্রিম উপায়ে তৈরি করা হয়। বাচ্চারা এসব জুস খেতে পছন্দ করলেও প্রকৃতপক্ষে তা ঝুঁকিপূর্ণ খাবার । এর থেকে বাসায় সতেজ ফল কিনে এনে বাচ্চাদের খাওয়ান; এগুলো অপেক্ষাকৃত বেশি নিরাপদ।

মধু

ডেলব্রিজ নামক এক বিজ্ঞানীর মতে, ২ বছর বয়স হবার আগে কোন শিশুকে কখনো মধু দেওয়া উচিৎ নয়। মধুতে কিছু বিষাক্ত ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে যা বড়দের সমস্যা না করলেও শিশুদের জন্য মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।

ম্যাকরনি ও চীজ

বিভিন্ন কৃত্রিম প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ম্যাকরনি ও চীজ প্রস্তুত করা হয়। ফলে এর মধ্যে পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ অনেক কমে যায়। সেই সাথে ম্যাকরনি ও চিজে উপস্থিত সোডিয়াম এবং প্রিজার্ভেটিভস বাচ্চাদের ভেতর মসলা জাতীয় এবং কৃত্রিম খাবার খাওয়ার চাহিদা বৃদ্ধি করে। তাই, সব দিক থেকেই ম্যাকরনি ও চিজ বাচ্চাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ খাবার ।

স্ন্যাক্স

যতই স্বাস্থ্যকর উপায়ে বানানো হোক না কেন, বাইরের চকলেট, চুইং গাম, চিপস এগুলো না খাওয়াই ভাল। অনেকেই প্রতিদিন নিয়ম করে বাচ্চাদের এসব খাবার দিয়ে থাকেন। ভাবেন, এসব খাবারের লোভ দেখিয়ে যদি কোনো কার্য সিদ্ধি হয়। কিন্তু আসলে হিতে বিপরীত হয়। এসব ঝুঁকিপূর্ণ খাবার খেয়ে আপনার বাচ্চার অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভবনা বৃদ্ধি পায়।

মার্কারি যুক্ত মাছ

অনেকে মনে করেন, সামুদ্রিক মাছ অপেক্ষাকৃত বেশি পুষ্টি বহন করে। আপনার ধারণা ঠিক; তবে তা শুধুমাত্র আপনার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সামুদ্রিক মাছে (যেমন- সোর্ডফিস, ম্যাকরেল, টুনামাছ ইত্যাদি) মার্কারি নামক একটি উপাদান থাকে যা ৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ক্ষতিকর। উচ্চ মাত্রার মার্কারিযুক্ত খাবার বাচ্চাদের স্নায়ুতন্ত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ খাবার হিসেবে আপাতত সামুদ্রিক মাছকে আপনার বাচ্চার কাছ থেকে দূরেই রাখুন।

এনার্জি ড্রিংক

স্পোর্টস ড্রিংক, এনার্জি ড্রিংক বাচ্চাদের খুবই পছন্দ। সন্তানের হাসি মুখ দেখতে বাবা মা প্রায়ই এসব ঝুঁকিপূর্ণ খাবার বাচ্চাদের দিয়ে থাকেন। এটা একদম-ই করবেন না। বড়রা অতিরিক্ত পরিশ্রম করার পর এগুলো খেয়ে থাকেন যা তাদের জন্যও ক্ষতিকর। বাচ্চাদের শরীরে এসব খাবার শুধু মেদ বাড়ায়।

ফ্রিজে সংরক্ষিত বা অতিরিক্ত ফ্রাই করা বা তেলে ভাজা খাবার

বর্তমানে ব্যস্ত মায়েরা খাবার প্রস্তুত করে ফ্রিজে সংরক্ষন করে রাখেন এবং পরবর্তিতে ঝটপট ভেজে খান; যেমন- চিকেন নাগেট, চিকেন ফ্রাই, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ইত্যাদি। এই সব খাবার অনেক সুস্বাদু হলেও স্বাস্থ্যের জন্য ভাল হয় না। বাচ্চাদের জন্য এগুলো আরও ক্ষতিকর। অনেকে আবার এর সাথে প্রচুর সস মিশিয়ে খান, যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

Comments

comments

Previous Post Next Post

You Might Also Like

Comments are closed.