ঘরোয়া চিকিৎসা, জীবনযাত্রা, ভেষজ, রূপচর্চা

চোখের নিচে কালো দাগ বয়স বাড়িয়ে দিচ্ছে?

আপনার চোখ দেখেই যদি বুঝে নেয়া যায় আপনি কতটা মানসিক ও পারিপার্শ্বিক চাপে আছেন সেটা কি ভাল লক্ষণ? চোখের নিচে কালো দাগ শুধু আপনার পারিপার্শ্বিক চাপের কথাই বলে না, এটি আপনার সৌন্দর্য ও চেহারার সজীবতাকে নষ্ট করে দেয় কয়েক গুণে। বংশগত কারণে, ত্বক শুষ্ক হলে, অনেকক্ষণ ধরে কাঁদলে, কম্পিউটারের সামনে বিরামহীন কাজ করলে, শারীরিক বা মানসিক দুশ্চিন্তায় থাকলে, ঘুম কম হলে এবং পুষ্টির অভাব থাকলে চোখের নিচে কালো দাগ পড়তে পারে।

অ্যালমন্ড অয়েল বা বাদামের তেল

চোখের নিচের ত্বক খুবই স্পর্শকাতর। বাদামের তেল চোখের নিচে কালো দাগ দূর করতে খুবই উপকারী। এর সাথে ভিটামিন ই তেল যোগ করে চোখের নিচে কালো দাগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

রাতে চোখের নিচে মেখে ঘুমিয়ে পড়ুন। সকালে উঠে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

শসা

শসাতে মৃদু অ্যাসট্রিজেন্ট এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিকারী উপাদান থাকে। শসায় শীতল এবং সতেজ করার ক্ষমতাও থাকে যা চোখের নিচে কালো দাগ দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

মোটা স্লাইস করে কেটে ৩০ মিনিট রেফ্রিজারেটরে রেখে ঠাণ্ডা করুন। এরপর চোখের উপর ১০ মিনিট রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ১ সপ্তাহ নিয়মিত দিনে ২ বার করে এভাবে ব্যবহার করুন।

অথবা শসা রস করে সাথে সমপরিমাণ লেবুর রস মেশান। একটা তুলার বল বানিয়ে এই মিশ্রণে ডুবিয়ে চোখে ১৫ মিনিট রেখে দিন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কাঁচা আলু

প্রাকৃতিকভাবে ব্লিচিং করার ক্ষমতা থাকার কারণে আলু চোখের নিচে কালো দাগ হালকা করতে পারদর্শী।

দুইটি আলু পিষে এর রস বের করে নিন। একটি তুলার বল এর মধ্যে ভিজিয়ে বন্ধ চোখের উপর দিয়ে ১০-১৫ মিনিট রাখুন। ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আলুর রসের পরিবর্তে মোটা আলুর স্লাইসও ব্যবহার করতে পারেন।

গোলাপ জল

এটি আপনার ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করে এবং এর শীতলভাব আপনার ক্লান্তি দূর করে দেয়। মৃদু অ্যাসট্রিজেন্ট উপাদান থাকায় এরা ভাল স্কিন টোনার হিসেবেও কাজ করে।

পরিস্কার গোলাপ জলের মধ্যে তুলার আই প্যাড কয়েক মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। বন্ধ চোখের উপর এই ভেজা আই প্যাডটি প্রায় ১৫ মিনিট রাখুন। এভাবে দিনে দুই বার করে কয়েক সপ্তাহ ব্যবহার করুন। চোখের নিচে কালো দাগ দূর হবে নিমেষেই।

টমেটো

টমেটোতেও ব্লিচিং প্রভাব থাকে যা চোখের নিচে কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে।

এক চা চামচ টমেটোর রসের সাথে হাফ চা চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। ত্বকের উপর লাগিয়ে অন্তত ১০ মিনিট রাখুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দিনে দুই বার করে কয়েক সপ্তাহ ব্যবহার করুন।

আপনি চাইলে এক গ্লাস টমেটোর জুসের সাথে কিছু মিন্ট পাতা, লেবুর রস এবং লবন মিশিয়ে পান করতে পারেন। ভাল ফল পাওয়ার জন্য বানানোর সাথে সাথেই খেয়ে ফেলুন। দিনে এক থেকে দুই বার করে পুরো সপ্তাহ পান করুন।

লেবুর রস

লেবুর রসে থাকে ভিটামিন সি যার স্কিন লাইটেনিং উপাদান ত্বকের ও চোখের নিচে কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে।

তুলার বলের সাহায্যে পরিষ্কার লেবুর রস চোখের চারপাশে লাগিয়ে নিন। ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। দিনে এক বার করে কয়েক সপ্তাহ ব্যবহার করুন।

অথবা ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, ২ টেবিল চামচ টমেটোর রস, এক চিমটি বেসন এবং হলুদ নিয়ে গাড় মিশ্রণ বানিয়ে চোখের চারিপাশে লাগিয়ে নিন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে পরিস্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২-৩ বার এভাবে ব্যবহার করুন।

সতর্কতাঃ লেবুর রসে যদি জ্বালা-পোড়া করে তাহলে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

নারকেল তেল

নারকেল তেল ত্বককে মসৃণ করে। এটা দিয়ে মাসাজ করলে চোখের নিচে কালো দাগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

শুধুমাত্র মাসাজ করে কিছু ঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন। দিনে ২-৩ বার করে কয়েক মাস এভাবে ব্যবহার করুন।

টি ব্যাগ

চা এর মধ্যে থাকে ক্যাফেইন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা চোখের নিচে কালো দাগ দূর করে এবং রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে।

ব্যবহার করা গ্রিন টি অথবা ব্ল্যাক টি ব্যাগ ৩০ মিনিট ধরে রেফ্রিজারেটরে ঠাণ্ডা করুন। এরপর চোখের উপর ১০-১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

সতর্কতাঃ খেয়াল রাখবেন যেন চোখের মধ্যে চা না চলে যায়।

ঠাণ্ডা ভাপ দেওয়া

ঠাণ্ডা ভাপ দিলে চোখের নিচের রক্তনালীগুলোর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে চোখের নিচে কালো দাগ ও ফোলা কমে যায়।

একটি কাপড় বা তোয়ালে নিয়ে ঠাণ্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর সেটাকে বন্ধ চোখের উপর দিয়ে কয়েক মিনিট রেখে দিন।

অথবা একটি ন্যাপকিনে কিছু বরফ নিয়ে চোখের নিচে দিয়ে রাখুন।

হলুদ

হলুদে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান থাকে যা চোখের নিচে কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে। তা ছাড়াও এরা চোখের আশেপাশের ত্বক মসৃণ এবং নরম করে।

দুই চা চামচ করে আনারসের জুস এবং হলুদের গুঁড়া নিয়ে গাড় পেস্ট তৈরি করুন। আক্রান্ত জায়গায় লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। তারপর নরম কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন। ভাল ফল পাওয়া পর্যন্ত নিয়মিত ব্যবহার করুন।

অতিরিক্ত টিপ

১। যথেষ্ট পরিমাণে ঘুমান এবং বিশ্রাম নিন।

২। অতিরিক্ত চোখ ঘষা থেকে বিরত থাকুন।

৩। ঘুমানোর আগে মেকআপ তুলে ফেলুন।

৪। রোদে কম যাবেন।

৫। দিনে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।

৬। ভিটামিন এ, সি এবং ই যুক্ত খাবার প্রচুর পরিমানে গ্রহণ করুন।

৭। ধূমপান এবং মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন।

Comments

comments

Previous Post Next Post

You Might Also Like

Leave a Reply