জীবনযাত্রা, মানসিক স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্য সমস্যা

গলা ছেড়ে গান গাও !

গান গাইলে নাকি আকাশে ডানা মেলে উড়ে বেড়ানোর স্বাদ পাওয়া যায়। হৃদয়ের যত অপূর্ণতা, চাপা পড়া আকাঙ্ক্ষা, কান্না, সুখ সব সুর হয়ে ছড়িয়ে যায় গানের মাধ্যমে। আর আপনি মানসিক ভাবে আনন্দে থাকলে যে শারীরিক ভাবেও ভাল থাকবেন, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। তাই গলা ছেড়ে গান ! এটা আমার কথা নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, গান গাইলে ব্যক্তি শারীরিক ও মানসিক ভাবে সুস্থ ও সজীব থাকেন। চলুন, জেনে নেই গান গাওয়ার কিছু উপকারিতার কথা।

মন মেজাজ ভাল রাখে ।

গান গাওয়ার সময় মানুষের শরীর থেকে এমন কিছু হরমোন নিঃসৃত হয় যা যৌন সঙ্গমের সময় বা চকলেট খেলে নিঃসৃত হয়। এই হরমোনের নিঃসরণ মানুষকে শান্ত এবং সজীব থাকতে সাহায্য করে। এসময় এন্ডরফিন নিঃসৃত হয় যা আমাদের শরীরে শক্তি যোগায় এবং অলসতা দূর করে।

ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে ।

গলা ছেড়ে গান গাইলে অ্যাবডোমিনাল, ইন্টার কোস্টাল এবং ডায়াফ্রাগামের মাংসপেশী সচল থাকে; সেই সাথে রক্ত সঞ্চালিত হয়। ফলে ফুসফুসের ব্যায়াম হয় যা আপনার শ্বাসের সাথে আরও বেশি পরিমাণে অক্সিজেন গ্রহণে সহায়তা করে। বেশি অক্সিজেন আমাদের শারীরিক এবং মানসিক চাপ দূর করতে সাহায্য করে।

কমিউনিটি তৈরি করে ।

সবাই একসাথে বসে গান গাইলে ব্যক্তির মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়। এতে করে আপনার মধ্যে একটি কমিউনিটি ফিলিং কাজ করে। এটি আপনার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে এবং হতাশা, দুশ্চিন্তা বা একাকীত্বতা হ্রাস করে।

সাইনাস দূর করতে সহায়তা করে ।

নিয়মিত গলা ছেড়ে গান গাইলে সাইনাস এবং রেসপিরেটরি টিউব পরিষ্কার এবং ফাঁকা থাকে। ফলে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে সুবিধা হয় এবং সাইনাসের সমস্যা কমে যায়।

গলা ছেড়ে গান গাওয়া একটি থেরাপি ।

গান অনেক সময় থেরাপির মত কাজ করে। বিভিন্ন থেরাপিস্টরা মানসিক দুশ্চিন্তা বা অশান্তি কমিয়ে আনতে গান গাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে গায়ক বা গায়িকাদের কম মাত্রায় কর্টিসল থাকে। কর্টিসল যত কম থাকে দুশ্চিন্তাও তত কমে যায়। গ্রুপ মেডিটেশনেও গ্রুপ সিঙ্গিং করতে বলা হয়ে থাকে।

Comments

comments

Previous Post Next Post

You Might Also Like

Leave a Reply