বিশেষ দিবস, সামাজিক সচেতনতা

ক্যান্সারকে দিব অ্যান্সার এই বিশ্ব ক্যান্সার দিবসে

ক্যান্সার! নামটা শুললে আমরা প্রায় সবাই একটু হলেও ভীত হয়ে যাই। কারো দেহে এই রোগটি বাসা বাঁধলে ভাবি, তার বুঝি আর রক্ষা নেই। ধীরে ধীরে মৃত্যুর পথে এগিয়ে যাওয়াই যেন এর শেষ পরিণতি। তবে এখন অনেক ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী সময়মত সঠিক চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠছে। ক্যান্সারকে জয় করে সুস্থ হয়ে ফিরে আসছে স্বাভাবিক জীবনে। আর তাই  “আমরা পারবো, আমি পারবো” এই শ্লোগান নিয়ে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস ২০১৬।

হঠাৎ করে শরীর আর স্বাভাবিক নিয়মে কাজ করতে পারছে না? অল্পতেই হাঁপিয়ে উঠছেন? ব্যায়াম করছেন না, খাচ্ছেন নিয়মিত তবুও ওজন কমে যাচ্ছে? এগুলো হলে ডাক্তার দেখান। হয়তোবা আপনিও এই ভয়াবহ ক্যান্সারের শিকার হয়েছেন। চলুন আজ বিশ্ব ক্যান্সার দিবসে এরোগ সম্বন্ধে কিছুটা বিস্তারিত জেনে নেই-

বিশ্ব ক্যান্সার দিবস

ক্যান্সারের চিহ্নিত, প্রতিরোধ ও প্রতিকার করা এবং সারা বিশ্বের মানুষকে এরোগ সম্বন্ধে সচেতন করার উদ্দেশ্যে ইউনিয়ন ফর ইন্টারন্যাশনাল ক্যান্সার কন্ট্রোল (IICC) ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারির ৪ তারিখে প্রথম বিশ্ব ক্যান্সার দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক লক্ষ্য ২০২০ সালের মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা লক্ষণীয়ভাবে কমিয়ে আনা।

ক্যান্সার কী?

কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধিকে ক্যান্সার বলা হয়ে থাকে। শরীরের যেকোনো স্থানে এটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। যখন শরীরের কোন কোষ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃদ্ধি পায় তখন শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয়। যার ফলে ধীরে ধীরে শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা হলে মৃত্যু হয়।

ক্যান্সার বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, যেমন- লাং, ব্রেস্ট, ব্রেইন, কোলন, জরায়ুর ক্যান্সার ইত্যাদি।

কীভাবে বুঝবেন যে আপনার এই রোগ হয়েছে?

সাধারণত নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হতেই পারে। একটু বেশি কাজ করলে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে। কিন্তু এই সমস্যা অনেকক্ষণ ধরে স্থায়ী হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

কোন কারণ ছাড়া মহিলাদের যোনি থেকে রক্তক্ষরণ হলে।

ঘন ঘন বুকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি হলে এবং অনেকক্ষণ ধরে স্থায়ী হলে।

৪-৬ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ধরে পাতলা পায়খানা হতে পারে।

মলমুত্র ত্যাগে সমস্যা সৃষ্টি হওয়া এবং এর সাথে রক্ত বের হতে পারে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে খাবার গিলে খেতে সমস্যা হলে।

ক্ষতস্থান পূরণ হতে স্বাভাবিকের থেকে বেশি সময় প্রয়োজন হয়।

রাতে কোন কারণ ছাড়া অতিরিক্ত পরিমাণে ঘামতে থাকা।

কোন কারণ ছাড়া হঠাৎ করে ওজন কমতে শুরু করা।

একবার কাশী হলে অনেক দিন স্থায়ী হয় এবং এর সাথে রক্ত নির্গত হতে পারে।

কোন কারণ ছাড়াই শরীরের বিভিন্ন স্থান ফুলে ওঠে বা মাংসপিণ্ড দেখা দেয়।

প্রতিরোধ

ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করুন।

শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

স্বাভাবিক এবং সুস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন।

সূর্যরশ্মির সংস্পর্শে থাকুন।

কাজ করুন। অলস বসে থাকবেন না।

 

Comments

comments

পূর্ববর্তী পোস্ট পরবর্তী পোস্ট

আপনি হয়ত এগুলো পছন্দ করতে পারেন