ধূমপান ত্যাগের সহজ উপায় জেনে নিন।
আচরণগত সমস্যা, খাদ্য ও পুষ্টি, জীবনযাত্রা, পরিবেশ দূষণ, পুরুষ স্বাস্থ্য, ফিটনেস, বয়স্কদের স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্য সমস্যা

ধূমপান ত্যাগের সহজ উপায় জেনে নিন।

ধূমপান একটি অভ্যাস। এই অভ্যাস যখন আসক্তিতে পরিণত হয় এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে তখন এই অভ্যাস ত্যাগ করাই ভাল। কিন্তু সকল ধূমপায়ীদের যেন একই অভিযোগ- ধূমপান ত্যাগ করা সহজ নয়। এর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে, হঠাৎ করে বা প্রথম প্রথম ধূমপান ছেড়ে দেয়ার সময় ব্যক্তি কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হন। মূলত, এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেই ধূমপান ত্যাগ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তাই আজ আমরা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে ধূমপান ত্যাগের সহজ উপায় নিয়ে জানবো।

কেন ধূমপান এত বড় নেশা?

ধূমপান ত্যাগের সহজ উপায় সম্পর্কে জানতে হলে আপনাকে প্রথমেই জানতে হবে ধূমপান কখন এবং নেশা বা আসক্তিতে পরিণত হয়। সিগারেটের মধ্যে থাকা নিকোটিন এর নেশা সৃষ্টি করার প্রধান কারণ। নিকোটিন মানুষের মস্তিস্কের কেমিক্যালের সাথে এমনভাবে মিশে যায় যে কিছু দিনের মধ্যেই এটার জন্য মস্তিস্কে আলাদাভাবে চাহিদার সৃষ্টি হয়। মস্তিস্ক যখন নিকোটিনের অভাব বোধ করে তখন আপনি বিমর্ষ এবং দুর্বল বোধ করেন; আর তখনই আপনার মনে হয়, “এখন একটা সিগারেট দরকার”।

শুধুমাত্র মস্তিস্কের চাহিদার কারণেই নয়; আরও অনেক কারণ আছে যা আপনার মধ্যে ধূমপানের ইচ্ছা জাগ্রত করে। সিগারেটের গন্ধ, কাউকে ধূমপান করতে দেখা, দুশ্চিন্তা ইত্যাদির কারণে আপনার ধূমপানের ইচ্ছা জাগতে পারে।

কিভাবে ধূমপান ছাড়বেন?

ধূমপান করা নেশায় পরিণত হয়ে গেলে তা ছেড়ে দেওয়া যথেষ্ট কঠিন হয়ে পড়ে। ধূমপান ত্যাগের সহজ উপায় হচ্ছেঃ

হঠাৎ করে একবারে ছাড়ার চেষ্টা করবেন না

শতকরা ৯০ ভাগ লোক ধূমপান ছাড়ার জন্য হঠাৎ করেই ধূমপান বন্ধ করে দেন। এভাবে ৫ থেকে ৭ শতাংশ লোক সফল হন। বাকিরা হতাশ হয়ে পুনরায় ধূমপান শুরু করেন। ধূমপান ত্যাগের সহজ উপায় হচ্ছে একটু সময় নেওয়া এবং সকলের সাহায্য নিয়ে ধূমপান ত্যাগের চেষ্টা।

কেন ধূমপান ছাড়বেন?

আপনি কেন ধূমপান ছাড়তে চান সে বিষয়টি নির্ধারণ করুন। শুধুমাত্র ছাড়তে হবে বলে ছাড়ছেন সেটা পর্যাপ্ত নয়। ধূমপান ছাড়ার কাল অনেক দীর্ঘ এবং যেকোনো সময় আবার আপনি ধূমপান শুরু করতে পারেন। তাই নিজের সংকল্পে অটুট থাকতে আপনার ধূমপান ছাড়ার কারণ অনেক সাহায্য করবে। ধূমপান ত্যাগের সহজ উপায় জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

তামাকের নিকোটিনের পরিবর্তে অন্য কোন নিকোটিন গ্রহন করুন।

ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার সময় মস্তিস্ক নিকোটিনের অভাবে ভোগে। তাই ধূমপান ছাড়ার সময় সাময়িকভাবে নিকোটিন গাম, প্যাচ, ইনহেলার, স্প্রে এবং লজেন্স গ্রহণ করা যেতে পারে। আপনার বয়স ১৮ বছরের কম হলে আপনি চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন নিয়ে এগুলো ব্যবহার করতে পারবেন।

শরীর চর্চা

নিয়মিত শরীর চর্চা বা ব্যায়াম করলে ধূমপানের প্রতি চাহিদা কমে যায়। ধূমপান ছেড়ে দিতে হাঁটাহাঁটি বা অন্যান্য ব্যায়াম করা ধূমপান ত্যাগের সহজ উপায়।

শাকসবজি এবং ফল খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দিন

ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার সময় নিকোটিন গ্রহণের চাহিদা কমিয়ে রাখার জন্য অন্যান্য খাবার খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। ডায়েট করতে থাকলে সেটা কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখাই শ্রেয়। তবে বেশি মেদ যেন না জমে সেদিকে লক্ষ রেখে শাকসবজি এবং ফল খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া ভাল।

ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখুন

বাসা পরিষ্কার না থাকলে বা কোন জায়গায় সিগারেটের গন্ধ থাকলে ধূমপানের ইচ্ছা জাগতে পারে। তাই ঘর বাড়ি ও কাপড়-চোপর পরিষ্কার রাখা ধূমপান ত্যাগের সহজ উপায়।

ধূমপান ছাড়ার সময় খেয়াল রাখবেন!

  • যে সকল জিনিস আপনার ধূমপানের ইচ্ছা জাগায় সেগুলো থেকে দূরে থাকুন।
  • মনে রাখবেন প্রথম কয়েক দিন খুবই কষ্টের। হতাশ বা নিরাশ হওয়া যাবেনা।
  • ধূমপানের ইচ্ছা দমন করে ফেলুন। ইচ্ছা দমন করতে পারলে আপনার ধূমপান ছাড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।
  • অন্য যে সকল বন্ধুরা ধূমপান করেনা তাদের সাথে মিলে নতুন কিছু করার চেষ্টা করুন। ধূমপায়ীদের সঙ্গ ত্যাগ ধূমপান ত্যাগের সহজ উপায়।

ধূমপান ছাড়া কতটা কঠিন হবে?

ধূমপান ছাড়া কতটা কঠিন হবে তা নির্ভর করে

  • আপনি দিনে কয়টা সিগারেট খান,
  • আপনার আশেপাশে কতজন সিগারেট খায়,
  • আপনি কেন সিগারেট খান তার উপর।

এমন যদি হয় যে ধূমপান ছাড়ার সময় একবার ধূমপান করে ফেলি?

যদি এমন হয় তাহলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ধূমপানের মত নেশা ছাড়ার সময় কষ্ট কম করতে আপনি একটা সিগারেট খেয়ে ফেললে খুব বেশি সমস্যা হবেনা। তবে খেয়াল রাখবেন এরকম যেন বার বার না হয়।

ধূমপান ছেড়ে দিলে কোন পার্শপ্রতিক্রিয়া হবে কী?

ধূমপান ছেড়ে দিলে শারীরিক ও মানসিক উভয় দিকেই সমস্যা হতে পারে।

শারীরিক সমস্যা

  • হাত পা শির শির করতে পারে,
  • ঘাম, মাথা ব্যথা ও আন্ত্রিক সমস্যা (intestinal disorder) হতে পারে,
  • ঠাণ্ডার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মানসিক সমস্যা

  • বাচ্চার মত মানসিক অবস্থা হতে পারে,
  • অতিরিক্ত রাগ, কোন কিছু পাওয়ার প্রবল ইচ্ছা, নিরভরশিলতা বৃদ্ধি পেতে পারে,
  • ইনসোমনিয়া বা অনিদ্রা, দুশ্চিন্তা, হতাশা, অস্বস্তি, মনোযোগের অভাব হতে পারে।

সমাধান

নিকোটিন আমাদের শরীরে এমনভাবে ছড়িয়ে যায় যে ছেড়ে দেওয়ার ৮ থকে ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত এর প্রভাব সমস্ত শরীরে বিদ্যমান থাকে। এই সমস্যা থেকে বাঁচার বিশেষ কোন উপায় নেই। ধূমপান ছাড়ার প্রথম ৪৮ ঘণ্টা এটা তীব্র মাত্রায় থাকে।যেহেতু সমস্যাগুলো মারাত্মক না তাই খুব বেশি চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। খুব বেশি হলে ৬ মাস লাগবে আপনার সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে।

Comments

comments

Previous Post Next Post

You Might Also Like

Leave a Reply