কর্মজীবন, জীবনযাত্রা, সামাজিক সচেতনতা

টাকা জমানোর কৌশল !

উপার্জন যখন করছেন, তখন সঞ্চয় করার অভ্যাসও গড়ে তোলা উচিৎ। বলতে দ্বিধা নেই, টাকা জমানো একটি গুণ। জীবনের প্রতিটা দিন এক রকম যায় না। বিপদ-আপদ, রোগ, শোকে হঠাৎ করে বড় অংকের টাকা লেগে যেতে পারে। তখন কে সাহায্য করবে আপনাকে? কার মুখ চেয়ে বসে থাকবেন?

মাস শেষে লাখ লাখ টাকা আয় করে কেউ কেউ এক টাকাও জমাতে পারে না; আবার কয়েক হাজার টাকা উপার্জন করেও একটু একটু জমিয়ে ফেলেন অনেকেই। শিখতে চান এই কৌশল? আপনাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমাদের আজকের বিষয় টাকা জমানোর কৌশল ! আশা করি উপকৃত হবেন।

টাকা জমাবেন কীভাবে ?

  • ভাংতি বা খুচরা ১/২ টাকার খেয়াল অনেকেই করেন না। কিন্তু হিসাব করলে দেখা যাবে এই খুচরা টাকা থেকে বছরে ১২-১৫ হাজার টাকা আপনি জমাতে পারতেন। তাই ভাংতি টাকা রাখুন যত্নে।
  • কখন, কোথায়, কী কারণে খরচ করছেন তার হিসাব রাখুন। হিসাব রাখলে অতিরিক্ত খরচ কমে যায়। দরকার হলে একটি ডায়রি, মোবাইলের নোট ইত্যাদির মাধ্যমে রেকর্ড রাখুন।
  • আবেগের বশবর্তী হয়ে কোন জিনিস হঠাৎ করে কিনবেন না। টাকা জমানোর কৌশল অনুসরণ করার সর্ব প্রথম শর্ত মাথা ঠাণ্ডা রাখা। জিনিসপত্র কেনার আগে সেটার প্রয়োজনীয়তা বিচার করুন। মূল্য ছাড় থাকলেই কিনে ফেলার কোন কারণ নেই।
  • মাসে সর্বনিম্ন কত টাকা জমাবেন তা নির্ধারণ করুন। অবশ্যই যেটা নির্ধারণ করবেন তার থেকে বেশি টাকা জমানোর চেষ্টা করুন। টাকা জমানোর কৌশল অবলম্বন করার ক্ষেত্রে পরিকল্পনা করে এগিয়ে যাওয়া জরুরী।
  • কফি, বার্গার, পিৎজা, আইসক্রিম ইত্যাদি জাঙ্ক ফুড খাওয়া কমিয়ে দিন। এগুলো একদিকে যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, অন্যদিকে দামও অনেক। এগুলোর পরিবর্তে বাড়িতে কিছু তৈরি করে পিকনিক করুন; সময় ভাল কাটবে, খরচও কমে অর্ধেক হয়ে যাবে।
  • বাজার করতে যাওয়ার আগে লিস্ট তৈরি করুন। এতে বাড়তি খরচ এড়িয়ে যেতে পারবেন।
  • কাজে যাওয়ার জন্য সহজ এবং কম খরচের যানবাহন ব্যবহার করুন। এটি একটি অন্যতম টাকা জমানোর কৌশল । গাড়ি থাকলে জ্যামে পড়লে গাড়ির স্টার্ট বন্ধ করে রাখুন। এতে আপনার তেল খরচ অনেক কমে যাবে।
  • অতিরিক্ত বড় বাসায় ভাড়া থাকার প্রয়োজন নেই। আপনার পরিবারের জন্য যেটুকু প্রয়োজন সেরকম দেখে কোন বাসা পছন্দ করুন। বাসা আপনার অফিস, বা বাচ্চাদের স্কুলের কাছে হলে আরও ভাল।
  • বাসাতে খুব বেশি প্রয়োজন না হলে এসি ব্যবহার না করাই উত্তম। যাদের এসি আছে তারা এসি খুব বেশি বাড়িয়ে রাখবেন না। সাধারণ সহ্যক্ষমতার ভেতরে রাখার চেষ্টা করুন। অযথা লাইট, ফ্যান চালিয়ে রাখবেন না। লাইটের ক্ষেত্রে এনার্জি সেভিং লাইট ব্যবহার করুন। দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট খরচ বাঁচিয়ে চলা টাকা জমানোর কৌশল ।
  • প্রয়োজনের থেকে বেশি কাপড় কিনে টাকা নষ্ট করবেন না। ড্রেস দেখলেই কেনার ইচ্ছা জাগে। তাই দোকানে কম যাবেন ও কাপড় কম কিনবেন; এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টাকা জমানোর কৌশল । আর বড় বড় শপিং কমপ্লেক্স থেকে বেশি দামে কাপড় না কিনে একই কাপড় অন্য যেখানে কমে পাওয়া যায় সেখান থেকে কিনুন।
  • ইন্টারনেট, মোবাইলে কম টাকা খরচ করুন। ফোনে কথা না বলে ই-মেইল পাঠান বা ফেসবুক বা হোয়াটস অ্যাপে চ্যাট করুন। ভাইবার বা স্কাইপ বা এ ধরনের সার্ভিসের মাধ্যমে আপনি কথাও বলতে পারেন।
  • পরিবারে কাকে কোন সময় কী গিফট দিবেন তা আগে থেকে ভেবে রাখুন। এতে করে সময় পাওয়া যায় এবং যে গিফট দিবেন তার জন্য টাকাও জমানো যায়।

সব চেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে, টাকা জমানোর সদিচ্ছা এবং নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে সবচেয়ে ফলপ্রসূ টাকা জমানোর কৌশল ।

Comments

comments

Previous Post Next Post

You Might Also Like

Leave a Reply