চর্মরোগ, নবজাতক এবং শিশুর যত্ন, স্বাস্থ্য সমস্যা

স্ট্যাফাইলোকক্কাল স্ক্যাল্ডেড স্কিন সিনড্রোম বা এসএসএসএস (SSSS)

নামটি এখনো অনেকের কাছে অজানা হলেও এসএসএসএস এমন একটি রোগ যেটা বর্তমানে অনেকরই হতে দেখা যায়। কয়েক বছর আগেও আমাদের দেশে এটি খুব একটা হতে দেখা যেত না। সম্প্রতি অনেকের মাঝেই এই রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে।

তাহলে চলুন এই রোগটি সম্বন্ধে বিস্তারিত জেনে নেই-

স্ট্যাফাইলোকক্কাল স্ক্যাল্ডেড স্কিন সিনড্রোম বা এসএসএসএস কী?

এটি মূলত ত্বকের এমন একটি সমস্যা যেখানে ত্বকে লাল লাল ফোসকা পড়ে যা দেখতে অনেকটা পুড়ে যাওয়া ত্বকের মতন দেখায়। স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস নামক ব্যাকটেরিয়া থেকে নির্গত দুটি এক্সোটক্সিন (এপিডার্মোলাইটিক টক্সিন এ এবং বি) এর কারণে এই সমস্যা দেখা দেয়।

ডেস্মোসোম নামক এক ধরনের উপাদানের কারণে ত্বকীয় কোষগুলো একত্রে লেগে থাকে। এই টক্সিনগুলো ডেস্মোসোমকে বিশ্লেষিত করে দেয়। ফলে আমাদের শরীরের চামড়া উঠতে থাকে।

যাদের হয়

সাধারণত ৫ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের এই রোগটি হয়ে থাকে। কিশোর বা বয়স্কদের এই রোগটি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম।

এছাড়া যাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল অথবা কিডনিতে সমস্যা আছে তাদের যেকোনো বয়সে এই রোগটি দেখা দিতে পারে।

কারণ

আগেই বলেছি স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে এই রোগ দেখা দেয়। বিভিন্ন ভাবে এটি হতে পারে। যেমন-

চর্মরোগ থেকে

ঘা বা ফোড়া থেকে

চোখে কনজাংটিভাইটিস বা অন্য কোন প্রদাহ জনিত ঘা হলে

কোন প্রকার আঘাত থেকে ইনফেকশন সৃষ্টি হয়ে

ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা থেকে ইনফেকশন সৃষ্টি হয়ে

লক্ষণ

চোখ, নাক, কান, মুখ, বগল ইত্যাদি অংশের ত্বকে টিস্যু পেপারের মত ভাঁজ সৃষ্টি হবে। এছাড়া এসকল স্থানে ফ্লুয়িড পূর্ণ বড় বড় ফোসকার সৃষ্টি হবে।

এখান থেকে শুরু হয়ে এই র‍্যাশ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে যেতে পারে। নবজাতকদের ক্ষেত্রে ডাইপার এরিয়া গুলোতে এই র‍্যাশ ছড়িয়ে পড়ে।

ত্বকের উপরিভাগ কাগজের মত উঠে আসতে থাকে এবং ওই স্থানটি লাল, নরম ও স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে ওঠে।

শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শরীরে পানির অভাব দেখা দেয়।

আক্রান্ত স্থানে ব্যথার সৃষ্টি হয়।

এসএসএসএস রোগ কি সারানো সম্ভব?

হ্যা। সঠিক সময়ে এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগটি সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব।

Comments

comments

পূর্ববর্তী পোস্ট পরবর্তী পোস্ট

আপনি হয়ত এগুলো পছন্দ করতে পারেন