কারণ ও প্রতিকার, প্রতিরোধ, লক্ষণ, শারীরিক সমস্যা

উচ্চ রক্তচাপের কারণ গুলো জানেন কি?

হঠাৎ করে শরীর খারাপ লাগছে। বুক ধড়ফড় করছে কিংবা মাথা ঘুরছে। বাসার পাশের দোকান থেকে রক্তচাপ পরীক্ষা করালেন। ধরা পড়ল উচ্চ রক্তচাপ। ভেবে পাচ্ছেন না কেন হল উচ্চ রক্ত চাপ? ভাবছেন আপনার তো এখনও তেমন বয়স হয়নি। আসলে আমাদের অনেকেরই হয়তোবা জানা নেই যেকোন বয়সের যে কারো উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। একজন মধ্যবয়স্ক মানুষের উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে আবার বয়স্ক মানুষেরও উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। শুধুমাত্র বয়স বেশি হলেই উচ্চ রক্তচাপ হবে এমন ধারনা ঠিক নয়।

আসুন আমরা উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেই।

বর্তমানে উচ্চ রক্তচাপ ‘নিরব ঘাতক’ হিসাবে পরিচিত। রক্তচাপ যদি ১৪০/৯০ মিলিমিটার পারদ অথবা এর বেশি হয় তাহলে এই অবস্থাকে উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়।

উচ্চ রক্তচাপের বিশেষ কিছু কারণ রয়েছে যেগুলো জানা থাকলে আপনি খুব সহজেই এই শারীরিক সমস্যাটি প্রতিরোধ করতে পারবেন।

বংশগতঃ

আপনার পরিবারের কোনো সদস্যের উচ্চ রক্তচাপ থাকলে আপনারও এই সমস্যাটি হতে পারে।

ধূমপানঃ

উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ হল ধূমপান। ধূমপায়ীদের শরীরে তামাকের নানারকম বিষাক্ত পদার্থ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এর ফলে দেখা দেয় উচ্চ রক্তচাপসহ নানান শারীরিক সমস্যা।

অতিরিক্ত লবণ খাওয়াঃ  

আপনি কি খাবারে বাড়তি লবন খাচ্ছেন? এই বদ অভ্যাসটি আপনার শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ। জানেন কি? খাবার লবনের সোডিয়াম রক্তের জলীয় অংশকে বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তচাপও বেড়ে যায়।

অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতাঃ

নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম না করলে শরীরের ওজন বেড়ে যেতে পারে। অধিক ওজনের ব্যক্তিদের হৃদযন্ত্রকে অতিমাত্রায় সক্রিয় থাকতে হয়। এই কারণে যাদের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাদের উচ্চ রক্তচাপ হয়ে থাকে।

অতিরিক্ত তেল চর্বি ভাজাপোঁড়া জাতীয় খাবারঃ

অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার যেমনঃ মাংস, মাখন, ঘি, পনির, ডিমের হলুদ অংশ, কলিজা ও ডুবোতেলে ভাজা নানা রকমের মুখ্যরোচক খাবার খেলে রক্তে কলেস্টেরল বেড়ে যায়। এর ফলে রক্তনালির দেয়াল মোটা ও শক্ত হয়ে যায়। এজন্য রক্তচাপও বেড়ে যায়।

অতিরিক্ত মদ্যপানঃ

যারা নিয়মিত অতিমাত্রায় মদপান করে তাদের উচ্চ রক্তচাপ বেশি হয়।

ডায়াবেটিসঃ   

দীর্ঘ দিন ধরে কেউ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে তার উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার প্রবনতা দেখা দেয়।

মানসিক চাপঃ 

অতিরিক্ত রাগ, উত্তেজনা, ভীতি এবং মানসিক চাপের কারণেও রক্তচাপ অল্প কিছু সময়ের জন্য বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘ দিন ধরে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেলে, স্টেরয়েডজাতীয় হরমোন গ্রহণ করলে এবং ব্যথানাশক কিছু কিছু ওষুধ খেলেও উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে।

অনেকের এই সমস্যার শুরুতে কোনো উপসর্গ থাকে না। রুটিন চেকআপে বা অন্য কোনো কারণে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ে।

তবে কারো কারো ক্ষেত্রে কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমনঃ

  • মাথাব্যথা
  • মাথার পেছন দিকে ব্যথা হতে পারে
  • সকালবেলা এবং হাঁটার সময় ব্যথার তীব্রতা বাড়ে
  • কারও কারও ক্ষেত্রে মাথা গরম অনুভূত হতে পারে
  • ঘুমের ঠিকমত হয় না
  • বুকে চাপ অনুভব হয়
  • বুক ধড়ফড় করে
  • কোন কিছু দেখতে অসুবিধা বা ঝাপসা লাগা
  • মেজাজ সব সময় খিটখিটে থাকে

আসুন এবার জেনে নিন কিভাবে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখবেন।

রসুনঃ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান হলো রসুন৷ সকালে খালি পেটে এক কোয়া রসুন চিবিয়ে পানি খেলে রক্তচাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব৷

পেঁয়াজঃ খাবারের স্বাদ বহুগুনে বাড়িয়ে দিতে পেঁয়াজের গুরুত্ব অপরিসীম৷ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব কম নয়৷ পেঁয়াজ বাটা ও মধু সমান পরিমাণে মিশিয়ে প্রতিদিন দু’চামচ করে খেলে সহজেই উচ্চ রক্তচাপ কমানো যায়৷

নিম তুলসীঃ নিমের দুইটি পাতা ও তুলসীর দুইটি পাতা বেটে এর সাথে অল্প পরিমাণে পানি মিশিয়ে প্রতিদিন খেলে রক্তচাপ কমে আসবে৷ মিশ্রণটি খালি পেটে সপ্তাহখানেক খেলেই আপনি চমৎকার ফল পাবেন৷

ডাবের পানিঃ ডাবের পানি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভুমিকা পালন করে। তাই প্রতিদিন এক গ্লাস ডাবের পানি পান করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধের জন্য নিম্ন লিখিত বিষয় গুলো অনুসরন করা যেতে পারে।

শরীরের ওজন স্বাভাবিক রাখতে হবেঃ

আপনি কি যখন যা খুশি তাই খেয়ে ফেলেন? এই বদ অভ্যাসটি এড়িয়ে চলুন। নিয়মিত ব্যায়াম করুন। ওষুধ খেয়ে ওজন কমানো ঠিক নয়। প্রতিদিন অন্তত ২০- ৩০ মিনিট হাঁটুন। তাতে আপনার শরীরের অতিরিক্ত মেদ ও চর্বির পরিমাণ কমে আসবে।

খাদ্যাভাসের ক্ষেত্রে সতর্কতাঃ

অতিরিক্ত তেল- চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় শাক- সবজি ও আঁশযুক্ত খাবার রাখতে হবে। তাছাড়াও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার যেমন- দুধ, ছানা, ছোট মাছ, পেঁয়াজ বেশি করে খেতে হবে।

পরিমিত পরিমাণে লবণের ব্যবহারঃ

তরকারিতে প্রয়োজনীয় লবণের বাইরে অতিরিক্ত লবণ দেওয়া ঠিক নয়। খাবারের সাথে কাচা লবন খাওয়ার অভ্যাস পরিহার করতে হবে।

ধূমপান মদ্যপান বর্জনঃ

উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করতে অবশ্যই যেকোনো ধরনের নেশা জাতীয় দ্রব্য এড়িয়ে চলতে হবে। এমনকি ধূমপায়ীর সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকতে হবে। তামাক পাতা, জর্দা, গুল লাগানো ইত্যাদিও পরিহার করতে হবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণঃ

উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধের জন্য ডায়াবেটিক রোগীদের সুশৃংখল জীবন যাপন ও নিয়মিত ঔষধ সেবন করতে হবে।

মানসিক চাপ দুশ্চিন্তামুক্ত থাকুনঃ

নিয়মিত বিশ্রাম, সময়মত ঘুম, পরিমিত পানি পান, অতিরিক্ত কাজের চাপ না নেওয়া ইত্যাদি আপনাকে মানসিক চাপ মুক্ত রাখতে সহায়তা করে। মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ।

রক্তচাপ নিয়মিত পরীক্ষাঃ

নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শে রক্তচাপ পরীক্ষা করাতে হবে।

আপনার একটু সচেতনতায় পারে আপনাকে উচ্চ রক্তচাপের মত মারাত্মক সমস্যা থেকে বাঁচাতে। তাই এই বিষয়ে নিজে সচেতন হউন এবং অন্যকেউ সচেতন করুন।

Comments

comments

Previous Post

You Might Also Like

Comments are closed.