জীবনযাত্রা, পরিবেশ দূষণ, স্বাস্থ্য সমস্যা

আপনার শ্রবণশক্তি ভালো আছে তো?

পছন্দের গানে গিটারের শব্দ শুনতে পাচ্ছেন না, ভলিউম টা একটু বাড়িয়ে নিলেন। এভাবেই প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ভাবে আমাদের শ্রবণশক্তির উপর চাপ প্রয়োগ করেই যাচ্ছি; ফলে আমাদের শ্রবণশক্তি লোপ পাচ্ছে। সময় এসেছে আমাদের শ্রবণশক্তি নিয়ে ভাবার!

কেন শ্রবণশক্তি নিয়ে ভাবা উচিৎ?

মানুষের ৫ টি ইন্দ্রিয়ের মধ্যে প্রত্যেকটির গুরুত্ব অপরিসীম। কথায় আছে “দাত থাকিতে দাতের মর্ম বোঝেনা”। যারা শুনতে পারেনা তারাই বোঝে শ্রবণশক্তি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিদিন আমাদের আশেপাশে অনেক শব্দ থাকে যা না চাইতেও আমাদের শ্রবণশক্তির উপর প্রভাব ফেলে; কনসার্ট, সিনেমা হল, গাড়ির শব্দ, অনেক উচ্চঃস্বরে চিৎকার আরও কত কি। ডা. গুরেনওয়াল্ডের মতে যত বেশি সময় ধরে আমরা এই উচ্চঃস্বরের শব্দের আওতায় থাকব তত আমাদের শ্রবণশক্তি লোপ পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।

শব্দের পরিমাণ কত হলে আমাদের শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকি বাড়ে?

গবেষণায় দেখা গেছে, আমরা ৮৫ ডেসিবেল মাত্রার শব্দ পর্যন্ত নিরাপদ। গাড়ির মধ্যে থেকে শহরের কোলাহল যে মাত্রায় আমাদের কানে আসে সেটা ৮৫ ডেসিবেলের সমান। হেডফোনে ১২০ ডেসিবেল থাকে যার ফলে আমাদের শ্রবণশক্তি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অনেকে টেমপোরারি থ্রেসহোল্ড শিফটস্‌-এ ভোগেন, যেখানে অনেক উচ্চঃস্বরের সন্নিবেশে থাকলে সাময়িকভাবে কয়েকদিন আপনার শ্রবণশক্তি হারিয়ে যায়। পরে আবার ফিরে আসে।

কিভাবে বুঝবেন যে আপনার শ্রবণশক্তি হারিয়ে যাচ্ছে?

২০১৩ সালে ইউ-টিউবে “হাউ ওল্ড আর ইয়োর ইয়ারস” (How old are your ears) নামে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এটা দেখতে অনেকেরই ভাল লাগবেনা। কারণ এই ভিডিওর মাধ্যমে হয়তো আপনি জানতে পারবেন আপনার কান অর্থাৎ শ্রবণশক্তি আপনার বয়সের তুলনায় অন্তত ২০ বছর পুরনো হয়ে গেছে। এছাড়া আরও জানতে পারবেন, কানের কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনও তৈরি করা হয়েছে।

আই ফোনের জন্য আছে ইউহেয়ার (UHear) ও মিমি টেস্ট (Mimi Test) এবং অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য আছে হেয়ারিং টেস্ট (Hearing Test)।

আপনার শ্রবণশক্তি ঠিক করতে প্রযুক্তি কিভাবে সাহায্য করবে?

সাউন্ডহক (Soundhawk) নামে একটি অ্যাপ্লিকেশন পাওয়া যায় যা আপনার কানে কি পরিমাণ শব্দ পৌঁছাবে তার মান নিয়ন্ত্রন করে। এতে থাকে একটি ল্যাপেল মাইক্রোফোন ও দুইটি ইয়ারপিস।

কিভাবে শ্রবণশক্তি লোপ পাওয়ার হার কমানো যায়?

আপনার ফোনের ভলিউম কমিয়ে ৭০%-এ রাখুন। শ্রবণশক্তি সুস্থ রাখতে গান শোনার ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি মাত্রার শব্দ ব্যবহার করবেন না।

কোন কনসার্ট বা সংগীত সন্ধ্যায় গেলে ইয়ারপ্লাগ নিয়ে যেতে ভুলবেন না। কে জানে কখন আপনার এর প্রয়োজন হয়ে পড়ে!

ইয়ারবাড না কিনে নয়েজ ক্যানসেলিং হেডফোন ব্যবহার করুন।

Comments

comments

Previous Post Next Post

You Might Also Like

Leave a Reply