আদা চায়ের চেয়ে আদা জলের উপকারিতা অনেক বেশি।
খাদ্য ও পুষ্টি

আদা জলের মাহাত্ন এত!

আদা কি শুধুই একটি মশলার নাম? শুধুমাত্র খাবারকে সুস্বাদু করাই কি এর কাজ? আসলে খাবারের স্বাদ বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আদার রয়েছে নানাবিধ জানা- আজানা উপকারিতা। আদার বহুবিধ ব্যবহারের মধ্যে আদা জল বেশ আলোচিত। আদা চায়ের চেয়ে আদা জলের উপকারিতা অনেক বেশি।

আসুন আমরা জেনে নেই কিভাবে প্রস্তুত করবেন আদা জল।

প্রথমে একটি পাত্রে দুই গ্লাস পরিমাণ পানি নিন। পানির মধ্যে কয়েক টুকরো আদা দিন। এরপর পানি গরম করতে দিন। পানি গরম হয়ে ফুটতে শুরু করলে চুলা থেকে নামিয়ে আদা জল ছেঁকে নিন। আদা জলের স্বাদ বাড়ানোর জন্য আপনি এর সাথে অল্প পরিমাণে মধু ও লেবুর রস মেশাতে পারেন।

এবার জেনে নেই আদা জলের বিষ্ময়কর কিছু গুনাগুনের কথা।

অ্যাসিডিটির প্রতিরোধেঃ অ্যাসিডিটির অন্যতম প্রধান কারণ হল খাবার হজম না হওয়া। এই ধরনের সমস্যা দূর করতে আপনি নিশ্চয় ডাক্তারের শরণাপন্ন হন? অথচ আপনি ঘরে বসেই এইরকম ছোটখাটো সমস্যার সমাধান করতে পারি। সকাল বেলা নিয়মিত এক গ্লাস আদা জল খেলে আপনি বদ হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। মহিলাদের গর্ভাবস্থার শুরুতে বমি বমি ভাব কমাতে আদা জল অতুলনীয়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেঃ দিন দিন বাড়ছে ডায়াবেটিস রোগীদের সংখ্যা। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় শর্করার পরিমাণ থাকে সবচেয়ে বেশি। শরীরে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে দেখা দেয় ডায়াবেটিস। কিছু বিশেষ সচেতনতামূলক কাজ করলে আমরা এই রোগটিকে প্রতিরোধ করতে পারি। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে আদা জলের জুরি নেয়। এই পানীয় রক্তের শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ওজন কমাতেঃ আপনার ওজন কি স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাচ্ছে? এই সমস্যার কারণে কি আপনি অস্বস্তিতে ভুগছেন? আদাতে আছে কিছু উপকারি উপাদান যা ক্ষিদা কমাতে সহায়তা করে। তাছাড়াও শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট বা চর্বি ঝরাতে আদা জলের ভূমিকা অপরিসীম। নিয়মিত এই পানীয় পান করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেঃ ভিটামিন এ, সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের অন্যতম উৎস আদা। এই সকল খাদ্য উপাদান ত্বকের নিচে জমে থাকা ক্ষতিকর পদার্থ সমূহকে বের করে দেয়। ফলে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ত্বকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। আদা জল বয়সের ছাপ প্রতিরোধে আপনাকে সহায়তা করবে।

স্মৃতিশক্তি বাড়াতেঃ আমাদের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়। আদা জল মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। আদায় বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। বুদ্ধি বিকাশেও আদা জলের জুরি নেয়।

ক্লান্তি দূর করতেঃ দৈনিক কাজের চাপে আমরা ক্লান্ত হয়ে পরি। ক্লান্তি দূর করতে আদা জল অতুলনীয়। এই পানীয় পেশীকে রাখে সতেজ। এই ক্লান্তি দূর করে নিজেকে সতেজ রাখতে নিয়মিত আদা জল পান করুন।

ক্যান্সার প্রতিরোধেঃ ক্যান্সার শব্দটি আমাদের সবার কাছে যেন একটি আতঙ্ক। বিশেষ কিছু নিয়মাবলী ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক। আদায় ক্যান্সার প্রতিরোধক উপাদান বিদ্যমান। ফুসফুস, কোলোন, জরায়ু, স্তন, ত্বক এবং প্যানক্রিয়েটিক ক্যান্সার প্রতিরোধে আদা জল অতুলনীয়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেঃ আমরা অনেকেই খুব অল্পতেই অসুস্থ হয়ে পড়ি। আদা জল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। সর্দি- কাশি এবং ভাইরাল ইনফেকশন প্রতিরোধে আদা জল সহায়ক।

আদা জল পান করার কিছু সতর্কতা।

  • গর্ভবতী মহিলাদের প্রেগন্যান্সির শেষ সপ্তাহ গুলোতে আদা জল পান করা ঠিক নয়। এতে প্রিম্যাচিওর শিশু জন্মের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • উচ্চতার চেয়ে যাদের ওজন অস্বাভাবিকভাবে কম তাদের আদা জল এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এই পানীয় শরীরের ফ্যাট বা চর্বি গলানোর প্রক্রিয়ায় সহায়ক।
  • যারা ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের জন্য নিয়মিত ঔষধ খান তাদের আদা জল এড়িয়ে চলা উচিত।

খাওয়া- দাওয়া বা হালকা নাস্তার পরে আদা জল পান করা শরীরের জন্য উপকারী। তাই নিয়মিত আদা জল পান করার অভ্যাস করেই দেখুন না, শারীরিক অনেক সমস্যার সমাধান পাবেন।

Comments

comments

Previous Post Next Post

You Might Also Like

Comments are closed.