চাকরিজীবী মা ও পরিবারের পরিচর্যা !
কর্মজীবন, জীবনযাত্রা, সম্পর্ক, সামাজিক সচেতনতা

চাকরিজীবী মা ও পরিবারের পরিচর্যা !

একজন চাকরিজীবী মা কীভাবে পরিবারের পরিচর্যা করে থাকেন? চাকরি করেন বলে কি তিনি পরিবারের প্রতি উদাসীন থাকেন? চাকরি ও সংসার; কীভাবে ব্যালেন্স করেন দুটি দিক?

মিসেস ফরিদা; খুব পরিপাটি, গুছানো, সুভাষিণী একজন মা। কাজের বুয়াকে সাথে নিয়ে পরিবারের জন্য নাশতা তৈরি করেন ভোর বেলায়। সবাইকে নাশতা খাইয়ে দুপুরের খাবার ব্যবস্থা করেন। দুটি মেয়ে তার। তাদের স্কুলের জন্য তৈরি করে নিজে অফিসে যাবার জন্য প্রস্তুতি নেন। অফিসে পৌঁছে তিনি কিন্তু আর মা নন। এভাবেই ঘর ও অফিস আলাদা করেন তিনি।

অফিস ও বাসা সামলানো

প্রথমেই চাকরি পছন্দের ক্ষেত্রে এমন কোন পেশা বেছে নিন যেটাতে আপনার নিজেকে দেওয়ার মত যথেষ্ট সময় থাকবে। চাকরি এবং সংসার বাদে শুধুমাত্র নিজের জন্য কিছু সময় রাখুন।

একটা রুটিন তৈরি করুন এবং সেটা নিয়মিত মেনে চলার চেষ্টা করুন।

মনে রাখবেন বাসা এবং অফিস এক নয়। বাসার কাজ বাসায় এবং অফিসের কাজ অফিসে।

অফিসের কোন কাজ বাসায় না আনার চেষ্টা করুন। অফিসের কাজ বাসায় করলে সংসারে প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারবেন না। ঠিক তেমনি সংসারের চিন্তা মাথায় নিয়ে অফিসের কাজও ঠিক ভাবে করতে পারবেন না।

একজন চাকরিজীবী মা সব কিছু নিজের সুবিধামত সাজিয়ে নেন। কোন জিনিসটা কখন কোথায় কীভাবে পাবেন সেটা জানা থাকলে কাজ করতে সুবিধা হয়।

কোন কাজটি আগে করতে হবে, কোন কাজ এখন না করলেও হবে সেটা নির্বাচন করতে হবে।

চাকরিজীবী মা Multi tasking করে কাজকে আরও সহজ ও ছোট করে আনবেন। একই সাথে কয়েকটি কাজ করতে পারলে সময় বাঁচবে।

আপনি চাকরিও করেন, সাথে সাথে সংসারও সামলান বলে পরিবাবারের অন্য কেউ কোন কাজ করেনা এমন ভাবা যাবে না।

মনে রাখবেন, একা একা সব কাজ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন হলে পরিবারের অন্য সদস্যের সাহায্য নিন।

কিছু সহজ এবং মজাদার খাবারের রেসিপি জেনে রাখুন। এতে রান্না করতে এবং সবাইকে চমকে দিতে সুবিধা হবে।

নিজের বাড়তি যত্ন

চাকরিজীবী মা চাকরি ও পরিবার সামাল দিতে অনেক সময় শেষ করে ফেলেন। নিজের খেয়াল রাখার সময় থাকে না। কিন্তু তারপরও নিজের প্রতি অতিরিক্ত যত্নশীল হতে হবে। আপনার সুস্থ থাকা অন্য যেকোনো কারো চেয়ে বেশি জরুরি। তাই নিজের প্রতি আরও যত্নশীল হোন।

  • প্রয়োজনমত বিশ্রাম নিন এবং নিয়মিত ব্যায়াম করুন।
  • স্বাস্থ্যকর খাবার খান।
  • নিজের বিনোদনের জন্য কিছু সময় রাখুন।
  • মন-মেজাজ ভাল থাকলে কাজেও ফুর্তি আসে।

পরিবার কীভাবে সহায়তা করবে?

স্বামীর সাথে কথা বলুন। নিজের কী কী প্রয়োজন এবং সংসারের জন্য তার কতটুকু সাহায্য আপনার প্রয়োজন সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করুন।

অফিসে কাজের চাপ সব সময় এক রকম থাকে না। কখনো কম কখনোবা বেশি। তাই পরিবারের সবাইকে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকতে হবে।

কোন ধরণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্বামীর সাথে আলোচনা করে নিন এবং পরিবারের সবাই যেন আপনাকে সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত থাকে সে ব্যাপারে সবাইকে উৎসাহিত করুন।

Comments

comments

পূর্ববর্তী পোস্ট পরবর্তী পোস্ট

আপনি হয়ত এগুলো পছন্দ করতে পারেন